শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালে কড়া নিরাপত্তা
- প্রকাশের সময় : ১১:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 89
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। আদালত ও আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়, তল্লাশি চালিয়ে জনসাধারণ ও সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
রায়ের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।
সকাল ১০টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের তারিখ নির্ধারণ করবেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মামলার সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আজকের দিনটি রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
এই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। প্রসিকিউশন তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিলেও তার আইনজীবী খালাসের আবেদন করেছেন।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগের নথি ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার।
এদিকে রায়ের দিন ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেওয়া লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের অনিরাপদ বোধ করছে না।






















