Dhaka ০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আবারও দেশে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০ কালুখালীর মদাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী কুন্নুর সমর্থনে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা ঝিনাইদহে মিশন আচার্যের মায়ের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন রাশেদ খান কালুখালীর হাঁড়ীভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান ১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি জাবিতে জঙ্গল থেকে ভোররাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক উন্নত জাতি গড়তে শিক্ষাব্যবস্থায় অবহেলা করা যাবে না: মঈন খান

ঝুঁকি নিয়েই ভারত থেকে মিথানল আমদানি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 86

অগ্নিকাণ্ডের উচ্চ ঝুঁকি নিয়েই সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মিথানল আমদানি হচ্ছে। স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের কোনো ইউনিট না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন নেভাতে ভারতের ডাউকি থেকে অগ্নিনির্বাপক দল আনতে হয়। এছাড়া বন্দরে কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব না থাকায় আমদানিকৃত মিথানলের নমুনা পরীক্ষা করাতে হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। সেখান থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ভারতীয় ট্যাংক লরি থেকে খালাস দেওয়া হয় মিথানল।

তামাবিল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কাঁচামাল ও জ্বালানিসহ নানা শিল্পকার্যে ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে নিয়মিত মিথানল আমদানি করা হয়। ভারতের আসাম রাজ্যের পার্বতপুর ডিব্রুগড় পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি থেকে এসব মিথানলবাহী ট্যাংক লরি বাংলাদেশে আসে।

তবে স্থলবন্দরে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ রাখার জন্য কোনো নিরাপদ জোন নেই। ফলে ভারতীয় ট্যাংক লরিগুলোকে অনেক সময় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

গত বছরের ৯ নভেম্বর বন্দরে অপেক্ষমাণ একটি ভারতীয় ট্যাংক লরিতে আগুন ধরে গেলে তামাবিলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত অন্যান্য মালবোঝাই ট্রাক সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ওই সময় স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট না থাকায় ভারতের ডাউকি থেকে অগ্নিনির্বাপক দল এসে আগুন নেভাতে সহায়তা করে। পরে বাংলাদেশের জৈন্তাপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি দল এসে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার পর তামাবিল দিয়ে মিথানল আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিল তামাবিল পাথর-চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপ। তারা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বন্দরে একটি কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব ও ফায়ার সার্ভিস ইউনিট স্থাপনের দাবি জানায়।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, “তামাবিল স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট স্থাপন খুবই জরুরি। এ ছাড়া এখানে কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের, কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রায়হান আহমদ বলেন, “স্থলবন্দরকে আধুনিকীকরণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও কেমিক্যাল ল্যাবের সমস্যা সমাধান হবে। এর মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মিথানল আমদানি পরিচালনা করছি।”

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঝুঁকি নিয়েই ভারত থেকে মিথানল আমদানি

প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

অগ্নিকাণ্ডের উচ্চ ঝুঁকি নিয়েই সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মিথানল আমদানি হচ্ছে। স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের কোনো ইউনিট না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন নেভাতে ভারতের ডাউকি থেকে অগ্নিনির্বাপক দল আনতে হয়। এছাড়া বন্দরে কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব না থাকায় আমদানিকৃত মিথানলের নমুনা পরীক্ষা করাতে হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। সেখান থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ভারতীয় ট্যাংক লরি থেকে খালাস দেওয়া হয় মিথানল।

তামাবিল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কাঁচামাল ও জ্বালানিসহ নানা শিল্পকার্যে ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে নিয়মিত মিথানল আমদানি করা হয়। ভারতের আসাম রাজ্যের পার্বতপুর ডিব্রুগড় পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি থেকে এসব মিথানলবাহী ট্যাংক লরি বাংলাদেশে আসে।

তবে স্থলবন্দরে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ রাখার জন্য কোনো নিরাপদ জোন নেই। ফলে ভারতীয় ট্যাংক লরিগুলোকে অনেক সময় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

গত বছরের ৯ নভেম্বর বন্দরে অপেক্ষমাণ একটি ভারতীয় ট্যাংক লরিতে আগুন ধরে গেলে তামাবিলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত অন্যান্য মালবোঝাই ট্রাক সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ওই সময় স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট না থাকায় ভারতের ডাউকি থেকে অগ্নিনির্বাপক দল এসে আগুন নেভাতে সহায়তা করে। পরে বাংলাদেশের জৈন্তাপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি দল এসে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার পর তামাবিল দিয়ে মিথানল আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিল তামাবিল পাথর-চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপ। তারা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বন্দরে একটি কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব ও ফায়ার সার্ভিস ইউনিট স্থাপনের দাবি জানায়।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, “তামাবিল স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট স্থাপন খুবই জরুরি। এ ছাড়া এখানে কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের, কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রায়হান আহমদ বলেন, “স্থলবন্দরকে আধুনিকীকরণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও কেমিক্যাল ল্যাবের সমস্যা সমাধান হবে। এর মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মিথানল আমদানি পরিচালনা করছি।”

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন