Dhaka ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
স্বামী-স্ত্রীকে দূরে বদলি আমলাতান্ত্রিক খামখেয়ালিপনা: রিজভী গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ বিলুপ্ত করা হলো ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’ বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে ২.১ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নওগাঁয় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ঘাড় মটকে হত্যা, কার্টনে ভরে নীলফামারীতে নেওয়া হয় রাকিবের লাশ নিউমোনিক প্লেগ কী? কতটা ভয়ের কারণ হতে পারে এই রোগ? পানি সহযোগিতা নিয়ে ক‌মি‌টি : ভারতীয় প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

শ্যামাপূজা ও দীপাবলি : অন্ধকারের পরাজয়ে আলোর উৎসব

ইমদাদুল হক রানা
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 145

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও দীপাবলি উৎসব সোমবার (২০ অক্টোবর) সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতিবছর শ্যামা মায়ের আরাধনার মধ্য দিয়ে এই পবিত্র উৎসব পালিত হয়। শক্তি ও শান্তির প্রতীক দেবী শ্যামা বা মহাকালীর আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এখন আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

দিনভর মন্দির, আশ্রম ও ঘরে ঘরে চলছে পূজা, আরতি,সন্ধা প্রদীপ প্রজ্বালন ও প্রসাদ বিতরণ। ভক্তরা দেবী কালীর পায়ে প্রার্থনা করছেন অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রত্যাশায়।

দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব, যার মাধ্যমে অন্ধকার দূর করে আলোর পথের আহ্বান জানানো হয়। এটি শুভ ও কল্যাণের প্রতীক, যা মানুষকে অজ্ঞান ও অন্যায়ের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সত্য, শান্তি ও ন্যায়ের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার শিক্ষা দেয়।

শাস্ত্রমতে, দুর্গা ও কালী দেবীর মধ্যে রয়েছে গভীর পার্থক্য ও দার্শনিক তাৎপর্য। দুর্গা হলেন অন্নদাত্রী ও উর্বরা শক্তির প্রতীক, যিনি জীবন ও সৃষ্টির ধারাকে বহমান রাখেন। অন্যদিকে, কালী হলেন প্রলয়ের দেবী — ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্টির নবজাগরণের বার্তা দেন তিনি। পণ্ডিতদের মতে, দেবী কালী হলেন দুর্গারই রূপান্তর; বলা হয়ে থাকে, দুর্গার ললাটের সংকোচন থেকেই ক্রোধরূপে কালী প্রকাশিত হন। সেই কারণেই কালীকে চির ক্রোধান্বিতা হলেও, তিনি আসলে মায়ের রূপেই পূজিত — যিনি ভক্তদের অশুভ থেকে রক্ষা করেন।

ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, দেবী কালীর ১১টি রূপ, প্রতিটির আলাদা আলাদা মাহাত্ম্য ও শক্তির প্রতিফলন রয়েছে। এই পূজাকে অনেকে শ্যামাপূজো বা মহনিশি পূজা নামেও উল্লেখ করেন, কারণ এটি গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র মন্দিরগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আরতি, প্রদীপ প্রজ্বালন, আতশবাজি ও ভক্তিগীত পরিবেশন। বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও আশ্রমে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

অন্ধকারের পরাজয়ে আলোর জয়গানই এই দীপাবলি ও শ্যামাপূজার মূল বার্তা“জয় মা শ্যামা, জয় আলোর উৎসব!”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শ্যামাপূজা ও দীপাবলি : অন্ধকারের পরাজয়ে আলোর উৎসব

প্রকাশের সময় : ১০:২৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও দীপাবলি উৎসব সোমবার (২০ অক্টোবর) সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতিবছর শ্যামা মায়ের আরাধনার মধ্য দিয়ে এই পবিত্র উৎসব পালিত হয়। শক্তি ও শান্তির প্রতীক দেবী শ্যামা বা মহাকালীর আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এখন আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

দিনভর মন্দির, আশ্রম ও ঘরে ঘরে চলছে পূজা, আরতি,সন্ধা প্রদীপ প্রজ্বালন ও প্রসাদ বিতরণ। ভক্তরা দেবী কালীর পায়ে প্রার্থনা করছেন অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রত্যাশায়।

দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব, যার মাধ্যমে অন্ধকার দূর করে আলোর পথের আহ্বান জানানো হয়। এটি শুভ ও কল্যাণের প্রতীক, যা মানুষকে অজ্ঞান ও অন্যায়ের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সত্য, শান্তি ও ন্যায়ের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার শিক্ষা দেয়।

শাস্ত্রমতে, দুর্গা ও কালী দেবীর মধ্যে রয়েছে গভীর পার্থক্য ও দার্শনিক তাৎপর্য। দুর্গা হলেন অন্নদাত্রী ও উর্বরা শক্তির প্রতীক, যিনি জীবন ও সৃষ্টির ধারাকে বহমান রাখেন। অন্যদিকে, কালী হলেন প্রলয়ের দেবী — ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্টির নবজাগরণের বার্তা দেন তিনি। পণ্ডিতদের মতে, দেবী কালী হলেন দুর্গারই রূপান্তর; বলা হয়ে থাকে, দুর্গার ললাটের সংকোচন থেকেই ক্রোধরূপে কালী প্রকাশিত হন। সেই কারণেই কালীকে চির ক্রোধান্বিতা হলেও, তিনি আসলে মায়ের রূপেই পূজিত — যিনি ভক্তদের অশুভ থেকে রক্ষা করেন।

ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, দেবী কালীর ১১টি রূপ, প্রতিটির আলাদা আলাদা মাহাত্ম্য ও শক্তির প্রতিফলন রয়েছে। এই পূজাকে অনেকে শ্যামাপূজো বা মহনিশি পূজা নামেও উল্লেখ করেন, কারণ এটি গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সন্ধ্যায় রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র মন্দিরগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আরতি, প্রদীপ প্রজ্বালন, আতশবাজি ও ভক্তিগীত পরিবেশন। বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও আশ্রমে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

অন্ধকারের পরাজয়ে আলোর জয়গানই এই দীপাবলি ও শ্যামাপূজার মূল বার্তা“জয় মা শ্যামা, জয় আলোর উৎসব!”