Dhaka ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

নিউমোনিক প্লেগ কী? কতটা ভয়ের কারণ হতে পারে এই রোগ?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7

 

প্লেগ ও এ ধরনের বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজ করা রাশিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২৮ বছর বয়সী এক গবেষক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে তার নিউমোনিয়ার কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সাইবেরিয়ার ‘ইরকুতস্ক রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে’। এই মৃত্যুর পর আরও বেশ কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার সংক্রামক ব্যাধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘রসপোট্রেবনাডজর’ এই মৃত্যুর সঙ্গে ওই গবেষকের কাজের কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছে না। কিন্তু তারপরও ঘটনাটি নিউমোনিয়া তৈরি করে এমন প্লেগ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ঠিক কী ঘটেছে, কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না তা যাচাই করতে তারা রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বেসরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে সাধারণ জনগণের মধ্যে এই মুহূর্তে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ঝুঁকি কম।’ তবে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির বিষয়টি পুনঃমূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউমোনিক প্লেগ কী?

নিউমোনিক প্লেগ হলো ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ফুসফুসের এক অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী সংক্রমণ। এটিকে প্লেগের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণগুলোর মধ্যে একমাত্র নিউমোনিক প্লেগই মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি দিলে ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। সংক্রমিত পশুপাখির হাঁচি-কাশির মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে একজন থেকে অন্যজনের শরীরে নিউমোনিক প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯২৪ সালে।

ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া শরীরে আক্রমণের স্থানের ওপর ভিত্তি করে প্লেগের অন্যান্য রূপও তৈরি করতে পারে—

বুবোনিক প্লেগ: এটি প্লেগের সবচেয়ে সাধারণ রূপ। সাধারণত মাছি কামড়ালে বা ত্বকের কোনো ক্ষত দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ হয়। এতে লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ নোড ফুলে যায় ও প্রচণ্ড ব্যথা হয়, যা পরবর্তীতে সেপটিসেমিক প্লেগে পরিণত হতে পারে।

সেপটিসেমিক প্লেগ: এই সংক্রমণে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি রক্তপ্রবাহে আক্রমণ করে, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে। মাছির কামড় থেকেও সরাসরি এটি হতে পারে।
ফ্যারিনজিয়াল প্লেগ : সংক্রমিত কোনো পশুর মাংস খেলে গলায় এই রোগ আক্রমণ করে।

লক্ষণ ও চিকিৎসা

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে মারাত্মক নিউমোনিয়া তৈরি করে; যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করে। সংক্রমিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি এবং ডায়রিয়া।

আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা না পেলে এতে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

তবে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলে রোগীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। চিকিৎসায় সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, লেভোফ্লোক্সাসিন, মোক্সিফ্লোক্সাসিন, জেন্টামাইসিন এবং স্ট্রিপটোমাইসিন ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রোগীদের আইসোলেশনে রেখে অক্সিজেন ও ফ্লুইড সাপোর্ট দেওয়া হয়।

উনবিংশ শতাব্দী থেকেই প্লেগের টিকা ব্যবহৃত হয়ে এলেও, এটি নিউমোনিক প্লেগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে কি না তা নিশ্চিত নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সাধারণ মানুষের জন্য এই টিকা নেওয়ার সুপারিশ করে না। তবে গবেষণাগারের কর্মীদের মতো যারা প্রতিনিয়ত সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, সেই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য এটি প্রযোজ্য।

এখনো কেন প্লেগ হয়?

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. টাইলার ইভান্সের মতে, বাইবেল বা বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে কিংবা কোনো বড় মহামারী ও দারিদ্র্যের রূপক হিসেবে সাধারণ মানুষ প্লেগ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকলেও, এই রোগের অস্তিত্ব কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

১৪ শতকে ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত এই প্লেগে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এটি এখন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। ৯০-এর দশক থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আফ্রিকায় এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অ্যারিজোনায়। সেখানে এক ব্যক্তি অসুস্থ বিড়ালদের নিয়ে কাজ করতেন। ধারণা করা হয় তার আশেপাশের প্রাণীদের মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়েছিলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লেগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আপাতত কম। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি কমায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট হেলথ সেন্ট জোসেফ মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. রাতুল দালাল বলছেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তির ভ্রমণ করা তো দূরের কথা, হাঁটাহাঁটি বা দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাও থাকে না।’ জীবাণুর সংস্পর্শে আসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মানুষের শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশ্বের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। আমি সব সময় বলি, বিশ্ব এখন একটা ছোট গ্রাম, সবাই সবার সঙ্গে যুক্ত। তবে কোভিড মহামারীর সময় আমরা যা দেখেছি, সেই তুলনায় এই রোগের ভয়াবহতা এখনো ততটা নয়। আশা করা যায়, এটি নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।’

প্লেগ আক্রান্ত রোগীদের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের রোগী থেকে সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একই সঙ্গে আক্রান্তদের শরীরের যেকোনো নিঃসৃত তরলের সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসম্মত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) পরার নির্দেশনা রয়েছে। এর পাশাপাশি তারা আগাম সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিকও গ্রহণ করতে পারেন। সিএনএন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নিউমোনিক প্লেগ কী? কতটা ভয়ের কারণ হতে পারে এই রোগ?

প্রকাশের সময় : ০১:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

 

প্লেগ ও এ ধরনের বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজ করা রাশিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২৮ বছর বয়সী এক গবেষক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে তার নিউমোনিয়ার কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সাইবেরিয়ার ‘ইরকুতস্ক রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে’। এই মৃত্যুর পর আরও বেশ কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার সংক্রামক ব্যাধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘রসপোট্রেবনাডজর’ এই মৃত্যুর সঙ্গে ওই গবেষকের কাজের কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছে না। কিন্তু তারপরও ঘটনাটি নিউমোনিয়া তৈরি করে এমন প্লেগ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ঠিক কী ঘটেছে, কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না তা যাচাই করতে তারা রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বেসরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে সাধারণ জনগণের মধ্যে এই মুহূর্তে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ঝুঁকি কম।’ তবে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির বিষয়টি পুনঃমূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউমোনিক প্লেগ কী?

নিউমোনিক প্লেগ হলো ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ফুসফুসের এক অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী সংক্রমণ। এটিকে প্লেগের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণগুলোর মধ্যে একমাত্র নিউমোনিক প্লেগই মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি দিলে ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। সংক্রমিত পশুপাখির হাঁচি-কাশির মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে একজন থেকে অন্যজনের শরীরে নিউমোনিক প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯২৪ সালে।

ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া শরীরে আক্রমণের স্থানের ওপর ভিত্তি করে প্লেগের অন্যান্য রূপও তৈরি করতে পারে—

বুবোনিক প্লেগ: এটি প্লেগের সবচেয়ে সাধারণ রূপ। সাধারণত মাছি কামড়ালে বা ত্বকের কোনো ক্ষত দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ হয়। এতে লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ নোড ফুলে যায় ও প্রচণ্ড ব্যথা হয়, যা পরবর্তীতে সেপটিসেমিক প্লেগে পরিণত হতে পারে।

সেপটিসেমিক প্লেগ: এই সংক্রমণে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি রক্তপ্রবাহে আক্রমণ করে, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে। মাছির কামড় থেকেও সরাসরি এটি হতে পারে।
ফ্যারিনজিয়াল প্লেগ : সংক্রমিত কোনো পশুর মাংস খেলে গলায় এই রোগ আক্রমণ করে।

লক্ষণ ও চিকিৎসা

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে মারাত্মক নিউমোনিয়া তৈরি করে; যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করে। সংক্রমিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি এবং ডায়রিয়া।

আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা না পেলে এতে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

তবে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলে রোগীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। চিকিৎসায় সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, লেভোফ্লোক্সাসিন, মোক্সিফ্লোক্সাসিন, জেন্টামাইসিন এবং স্ট্রিপটোমাইসিন ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রোগীদের আইসোলেশনে রেখে অক্সিজেন ও ফ্লুইড সাপোর্ট দেওয়া হয়।

উনবিংশ শতাব্দী থেকেই প্লেগের টিকা ব্যবহৃত হয়ে এলেও, এটি নিউমোনিক প্লেগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে কি না তা নিশ্চিত নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সাধারণ মানুষের জন্য এই টিকা নেওয়ার সুপারিশ করে না। তবে গবেষণাগারের কর্মীদের মতো যারা প্রতিনিয়ত সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, সেই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য এটি প্রযোজ্য।

এখনো কেন প্লেগ হয়?

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. টাইলার ইভান্সের মতে, বাইবেল বা বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে কিংবা কোনো বড় মহামারী ও দারিদ্র্যের রূপক হিসেবে সাধারণ মানুষ প্লেগ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকলেও, এই রোগের অস্তিত্ব কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

১৪ শতকে ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত এই প্লেগে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এটি এখন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। ৯০-এর দশক থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আফ্রিকায় এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অ্যারিজোনায়। সেখানে এক ব্যক্তি অসুস্থ বিড়ালদের নিয়ে কাজ করতেন। ধারণা করা হয় তার আশেপাশের প্রাণীদের মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়েছিলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লেগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আপাতত কম। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি কমায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট হেলথ সেন্ট জোসেফ মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. রাতুল দালাল বলছেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তির ভ্রমণ করা তো দূরের কথা, হাঁটাহাঁটি বা দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাও থাকে না।’ জীবাণুর সংস্পর্শে আসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মানুষের শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশ্বের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। আমি সব সময় বলি, বিশ্ব এখন একটা ছোট গ্রাম, সবাই সবার সঙ্গে যুক্ত। তবে কোভিড মহামারীর সময় আমরা যা দেখেছি, সেই তুলনায় এই রোগের ভয়াবহতা এখনো ততটা নয়। আশা করা যায়, এটি নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।’

প্লেগ আক্রান্ত রোগীদের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদের রোগী থেকে সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একই সঙ্গে আক্রান্তদের শরীরের যেকোনো নিঃসৃত তরলের সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়।

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসম্মত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) পরার নির্দেশনা রয়েছে। এর পাশাপাশি তারা আগাম সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিকও গ্রহণ করতে পারেন। সিএনএন