Dhaka ০২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেফতার ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

উপদেষ্টা হয়েও পাথর তোলা বন্ধ রাখতে পারলাম না: রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 233

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, উপদেষ্টা হওয়ার পরও তিনি সিলেটের জাফলং ও ভোলাগঞ্জ এলাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে পারেননি। আগের চার বছর জাফলংয়ে পাথর তোলা বন্ধ রাখা সম্ভব হলেও এবার তা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১১ আগস্ট) এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “পাথর উত্তোলনে সর্বদলীয় ঐক্য দেখছি। অথচ জাফলং রক্ষায় কোনো ঐক্য নেই। অপূর্ব সুন্দর একটি জায়গা আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখলাম। ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে, যা দেখে মনে হয় যেন সৌন্দর্য নষ্ট করাই লক্ষ্য।”

তিনি জানান, দেশের মোট পাথর চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ পূরণ হয় এসব এলাকা থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে, বাকিটা আমদানি করতে হয়। “৯৪ ভাগ আমদানি করতে পারলে বাকি ৬ ভাগ কেন আমদানি করা যাবে না?”—প্রশ্ন রাখেন রিজওয়ানা হাসান।

জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করে ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “পাথর তুলে যে আয় হয়, তার চেয়ে বেশি আয় সম্ভব ইকো-ট্যুরিজম থেকে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ কেউ করে না। পাথর তোলা কোনো টেকসই কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের শোষণ।”

প্রসঙ্গত, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ এলাকা ধলাই নদীর উৎসমুখে, সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ১০ নম্বর এলাকায় অবস্থিত। প্রতিবছর এখানকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে লাখো পর্যটক ভিড় জমায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দিন-রাত অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে, আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। ফলে মনোমুগ্ধকর এলাকা এখন প্রায় বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

উপদেষ্টা হয়েও পাথর তোলা বন্ধ রাখতে পারলাম না: রিজওয়ানা হাসান

প্রকাশের সময় : ০১:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, উপদেষ্টা হওয়ার পরও তিনি সিলেটের জাফলং ও ভোলাগঞ্জ এলাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে পারেননি। আগের চার বছর জাফলংয়ে পাথর তোলা বন্ধ রাখা সম্ভব হলেও এবার তা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১১ আগস্ট) এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “পাথর উত্তোলনে সর্বদলীয় ঐক্য দেখছি। অথচ জাফলং রক্ষায় কোনো ঐক্য নেই। অপূর্ব সুন্দর একটি জায়গা আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখলাম। ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে, যা দেখে মনে হয় যেন সৌন্দর্য নষ্ট করাই লক্ষ্য।”

তিনি জানান, দেশের মোট পাথর চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ পূরণ হয় এসব এলাকা থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে, বাকিটা আমদানি করতে হয়। “৯৪ ভাগ আমদানি করতে পারলে বাকি ৬ ভাগ কেন আমদানি করা যাবে না?”—প্রশ্ন রাখেন রিজওয়ানা হাসান।

জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করে ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “পাথর তুলে যে আয় হয়, তার চেয়ে বেশি আয় সম্ভব ইকো-ট্যুরিজম থেকে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ কেউ করে না। পাথর তোলা কোনো টেকসই কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের শোষণ।”

প্রসঙ্গত, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ এলাকা ধলাই নদীর উৎসমুখে, সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ১০ নম্বর এলাকায় অবস্থিত। প্রতিবছর এখানকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে লাখো পর্যটক ভিড় জমায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দিন-রাত অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে, আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। ফলে মনোমুগ্ধকর এলাকা এখন প্রায় বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।