Dhaka ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ফার্স্ট বয় তানবীরকে হারিয়ে বাবার বিলাপ, দুষছেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০১:১০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • / 99

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হয়েছেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তানবীর আহমেদ (১৪)। স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিকিৎসক হওয়ার। সেই স্বপ্ন আজ শুধু অতীত হয়ে রইল- একটা ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে চাপা পড়ে গেল এক সম্ভাবনাময় জীবন।

নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন বিমানের প্রশিক্ষণ চলায় এমন হতাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ক্লাসের ফার্স্ট বয় এখন কবরে রয়েছেন।’

তানবীর ছিলেন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ক্লাস টপার। জন্ম টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। পড়াশোনার সুবিধার্থে পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার উত্তরায়। তানবীরের ছোট ভাই তাশরীফও একই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

তানবীরের বাবা রুবেল মিয়া জানান, ছোট ছেলেকে নিয়ে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনি স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বার্ন ইউনিটে গিয়ে ছেলের মরদেহ পাই। ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাই প্রাণ হারিয়েছে সে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন বিমান প্রশিক্ষণ কেন? এটা কীভাবে হয়? এটি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের গাফিলতি। আমার ছেলে দ্বিতীয় হয়নি কখনো, কেজি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রোল নম্বর ১। এখন সে কবরে- এই ব্যথা আমি কিভাবে সইব?’

মঙ্গলবার সকালে তানবীরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিজ গ্রামের বাড়িতে। নয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় মাদরাসায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, শিক্ষক, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবরা।

গ্রামের মেম্বার আবুল কামাল বলেন,‘তানবীরকে বড় স্বপ্ন নিয়ে ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছিল। আজ সেই স্কুলই তার জীবনের সমাপ্তি টেনে দিল।’

স্থানীয় মসজিদের ইমাম সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তানবীর খুব ভালো, নম্র-ভদ্র ও মেধাবী ছেলে ছিল। আমরা এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’

তানবীরের পরিবারের দাবি, ক্লাস চলাকালীন সময়ে যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা। তারা সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা সবাই মর্মাহত। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তানবীরের পরিবারের পাশে থাকবো।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফার্স্ট বয় তানবীরকে হারিয়ে বাবার বিলাপ, দুষছেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে

প্রকাশের সময় : ০১:১০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হয়েছেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তানবীর আহমেদ (১৪)। স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিকিৎসক হওয়ার। সেই স্বপ্ন আজ শুধু অতীত হয়ে রইল- একটা ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে চাপা পড়ে গেল এক সম্ভাবনাময় জীবন।

নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন বিমানের প্রশিক্ষণ চলায় এমন হতাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ক্লাসের ফার্স্ট বয় এখন কবরে রয়েছেন।’

তানবীর ছিলেন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ক্লাস টপার। জন্ম টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। পড়াশোনার সুবিধার্থে পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার উত্তরায়। তানবীরের ছোট ভাই তাশরীফও একই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

তানবীরের বাবা রুবেল মিয়া জানান, ছোট ছেলেকে নিয়ে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনি স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বার্ন ইউনিটে গিয়ে ছেলের মরদেহ পাই। ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাই প্রাণ হারিয়েছে সে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন বিমান প্রশিক্ষণ কেন? এটা কীভাবে হয়? এটি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের গাফিলতি। আমার ছেলে দ্বিতীয় হয়নি কখনো, কেজি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রোল নম্বর ১। এখন সে কবরে- এই ব্যথা আমি কিভাবে সইব?’

মঙ্গলবার সকালে তানবীরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিজ গ্রামের বাড়িতে। নয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় মাদরাসায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, শিক্ষক, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবরা।

গ্রামের মেম্বার আবুল কামাল বলেন,‘তানবীরকে বড় স্বপ্ন নিয়ে ভালো স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছিল। আজ সেই স্কুলই তার জীবনের সমাপ্তি টেনে দিল।’

স্থানীয় মসজিদের ইমাম সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তানবীর খুব ভালো, নম্র-ভদ্র ও মেধাবী ছেলে ছিল। আমরা এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’

তানবীরের পরিবারের দাবি, ক্লাস চলাকালীন সময়ে যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা। তারা সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা সবাই মর্মাহত। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তানবীরের পরিবারের পাশে থাকবো।’