প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিচারব্যবস্থায় সাফল্য বজায় রেখে চলেছেন প্রফেসর শাহীন কবীর

- প্রকাশের সময় : ০১:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
- / 400

প্রফেসর শাহীন কবীর
‘প্রযুক্তি যেন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, আইন যেন প্রযুক্তির দাস না হয়।’-এই নীতিতে আইন যেন প্রযুক্তির সাথে ন্যায়বিচারের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে তার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে আইন ও প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি হলেন প্রফেসর মো: শাহীন কবীর। তিনি একাধারে গবেষক, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের পরামর্শদাতা। আইন ও প্রযুক্তির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি তার সাথে আইন গবেষণা, ভবিষ্যতের আইনশাস্ত্র এবং তরুণদের জন্য বার্তা নিয়ে আলাপে যুক্ত হয় দৈনিক জনতার আদালত।
প্রশ্ন : প্রযুক্তি ও আইন-এই দুই ভিন্নধর্মী ক্ষেত্রকে একসাথে ভাবার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে এলো?
শাহীন কবীর : আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ প্রশ্ন থেকে—“ডিজিটাল যুগে আইন তার নৈতিক ভিত না হারিয়ে কিভাবে টিকে থাকতে পারে?” এই প্রশ্ন থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়। ধীরে ধীরে বুঝতে পারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিগ ডেটা কিংবা IOT—এসব প্রযুক্তি শুধু সমাজ নয়, বিচারব্যবস্থাকেও বদলে দিচ্ছে।
প্রশ্ন : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কীভাবে আইনি সিদ্ধান্তে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে?
শাহীন কবীর : AI আইনি গবেষণা, দলিল খসড়া, এমনকি মামলার ফলাফল অনুমানেও সহায়তা করতে পারে। তবে আমি বারবার জোর দেই এই জায়গাটিতে—AI কখনো মানবিক বিচারবুদ্ধির বিকল্প হতে পারে না। আমার এক গবেষণায় বলেছি, “আইন শুধু তথ্য নয়, নৈতিকতাও বহন করে। তাই সিদ্ধান্ত হতে হবে মানুষের, সহায় হবে প্রযুক্তি।”
প্রশ্ন : আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় IOT ও বিগ ডেটার ব্যবহার কীভাবে দেখেন?
শাহীন কবীর : পুলিশি তদন্তে স্মার্ট ক্যামেরা, ওয়্যারেবল ডিভাইস, রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ এখন অনেক কিছু সম্ভব করে তুলছে। কিন্তু এর বিপরীত দিকও রয়েছে—অতিরিক্ত নজরদারি, গোপনীয়তার লঙ্ঘন। আমি সবসময় বলি, “প্রযুক্তি যেন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, আইন যেন প্রযুক্তির দাস না হয়।”
প্রশ্ন : অভিবাসন ও বর্ডার কন্ট্রোলে AI ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কী?
শাহীন কবীর : AI দিয়ে ভিসা প্রসেসিং, সীমান্ত নিরাপত্তা অনেক গতি পেয়েছে। তবে ফেসিয়াল রিকগনিশন বা প্রোফাইলিং সঠিক নিয়মে না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে। আমার পরামর্শ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানব-কেন্দ্রিক ডিজাইন—এই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া এই প্রযুক্তিগুলো নিরাপদ নয়।
প্রশ্ন : দক্ষিণ এশিয়ায় বিচার ব্যবস্থার ধীরগতির সমাধানে আপনি কী ভাবেন?
শাহীন কবীর : বাংলাদেশসহ অনেক দেশে মামলার জট ভয়াবহ। আমি পরামর্শ দিয়েছি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করার, যাতে কেস ট্র্যাকিং সহজ হয় এবং জবাবদিহিতা বাড়ে। প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এই জট কিছুটা হলেও কমাতে পারে।
প্রশ্ন : তরুণদের জন্য কী বার্তা দিতে চান, যারা প্রযুক্তি ও আইন—দুয়ের দিকেই আগ্রহী?
শাহীন কবীর : আমি বিশ্বাস করি—ভবিষ্যতের আইনজীবীকে অ্যালগরিদম বুঝতে হবে, এবং প্রযুক্তিবিদদেরও ন্যায়বিচার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এই যুগে একক দক্ষতা যথেষ্ট নয়, দরকার সহযোগিতামূলক মনোভাব। তরুণদের বলব—তোমরা যদি প্রযুক্তির ভাষা জানো আর ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ থাকো, ভবিষ্যৎ তোমাদের। শেষ কথা : প্রযুক্তির দাপটে ন্যায় যেন বিলীন না হয়।

উল্লেখ্য, প্রফেসর মো: শাহিন কবির একজন দক্ষিণ এশীয় আইন গবেষক, বরং ভবিষ্যতের আইন ও প্রযুক্তির মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার কাজ আমাদের দেখিয়ে দেয়—উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন তা মানবিক ন্যায়ের সঙ্গে খাপ খায়। দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য তার গবেষণা একটি অনুপ্রেরণা। বর্তমানে তিনি Lakhmi Chand Institute of Technology-এ আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের University of Oxford-এ একাডেমিক গবেষণার সাথে যুক্ত।
তিনি লক্ষ্মী চাঁদ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি একাডেমিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি দুবাইতে একজন সিনিয়র রিসার্চ স্কলার (আইন) ছিলেন। একাডেমিক শিক্ষকতার ভূমিকায়, অধ্যাপক কবির র্যাফেলস ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-এ আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি লখনউ ইন্টিগ্রাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের একজন অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি সদস্য ছিলেন। অধ্যাপক শাহিন কবির অক্সফোর্ড (যুক্তরাজ্য) এর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অফ ল-এর গবেষণা ফেলো হিসেবে সম্মানিত হন এবং তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের (যুক্তরাজ্য) আইএএলএস-এ একজন নিবন্ধিত একাডেমিক এবং গবেষক ছিলেন। ২০২০ সাল থেকে, তিনি ম্যাক্রোথিঙ্ক ইনস্টিটিউট (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এর সম্পাদকীয় বোর্ড সদস্য, কানাডিয়ান সেন্টার অফ সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন (কানাডা) এর একজন পর্যালোচক এবং জার্নাল অফ ল অ্যান্ড পলিটিক (কানাডা) এর একজন গ্লোবাল স্কলার টিম এবং পর্যালোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এশিয়ান সোশ্যাল সায়েন্স (কানাডা) এর সম্পাদকীয় বোর্ড সদস্যও। সম্প্রতি, অধ্যাপক শাহিন কবির নিউ হ্যাম্পশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্র্যাঙ্কলিন পিয়ার্স স্কুল অফ ল, (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) থেকে মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা স্কলার হিসেবে পদ অর্জন করেছেন।

























