হাটের ইজারা নিয়ে ৩জনকে কুপিয়ে জখম, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
- প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
- / 146
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরজু মোল্লা (৪৮), কদম মন্ডল (৪০) ও বাচ্চু মন্ডল (৩৮) নামে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা সবাই কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী ইউনিয়নের চরকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে আরজু মোল্লা হলেন কবির মোল্লার ছেলে, কদম মন্ডলের বাবার নাম লুৎফর মন্ডল এবং বাচ্চু মন্ডলের বাবা হাবিল মন্ডল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত সোনাপুর হাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৃষিপণ্য হাট। হাটের একাংশের বার্ষিক ইজারা পেয়েছেন আরজু মোল্লা। ওই ইজারা নেয়ার জন্য প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলেন মাঝবাড়ী ইউনিয়নের শিমুল নামের এক যুবক। তবে ইজারা পান আরজু মোল্লা। এরপর থেকেই শিমুল ও তার অনুসারীদের সঙ্গে আরজুর বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
রোববার দুপুরে আরজু মোল্লা হাটে গেলে শিমুল ও তার সহযোগীরা তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এসময় আরজুর সঙ্গে থাকা কদম ও বাচ্চুকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফুজ্জামান বলেন, তিনজনই গুরুতর আহত। আরজুর ডান হাত কনুইয়ের উপর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চামড়ায় ঝুলছিল। রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। কদমের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। তার পেটের অংশ ছিদ্র হয়ে কিডনি বেরিয়ে আসে, আমরা সেটা ভেতরে ঢুকিয়ে সেলাই করি। বাচ্চুর আঘাত তুলনামূলক কম হলেও তাকেও চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হয়। তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়।
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, সোনাপুর হাটটি বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উভয় উপজেলার সীমানায় হলেও ঘটনার স্থানটি বালিয়াকান্দি এলাকায় পড়েছে। হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শিমুল নামের যুবক হাটের ইজারা না পেয়ে জোর করে টাকা তোলার চেষ্টা করে এবং আরজুর লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। আজ সে আরজুকে একা পেয়ে দলবল নিয়ে কুপিয়ে ফেলে। শিমুল একজন চিহ্নিত অপরাধী, তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




















