Dhaka ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মহেশপুরে পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু পাঁচ ভাষায় মুক্তি পাবে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১০৮৮ ভরি রুপা চালুর এক দিন পরই ফের বন্ধ ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ৫১ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ৫ সহস্রাধিক যাত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড ও বিনামূল্যে শিক্ষার মতো উদ্যোগ নারীদের সম্ভাবনা ও সুযোগ বাড়াচ্ছে’ ‘সংস্কারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে নীতিগত ঐকমত্য, বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার’ দুর্গাপূজায় ৫ দিন ব্যাংক বন্ধ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা, গ্যাস মেলে অল্প

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / 204

রাজধানীর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আর যদিও পাওয়াও যায় তা চাহিদার তুলনায় সামান্য।

নগরীর বিভিন্ন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের প্রেসার কম থাকায় চাহিদামাফিক গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। এতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পেয়ে একদিকে ভোক্তার সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে খরচাও বাড়ছে।

কয়েকটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গ্রাহকরা চাহিদামতো গ্যাস রিফিল করতে পারছেন না। আবার কোনো কোনো স্টেশনে একেবারেই গ্যাস নেই। সে কারণে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থিত পিনাক্যাল পাওয়ার লিমিটেড রিফুয়েলিং স্টেশনে কথা হয় গ্রাহক ফয়সাল মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকে কয়েকটা গ্যাস স্টেশনে গিয়েছি। কোথাও গ্যাস নেই, কোথাওবা লম্বা লাইন। এখানে গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ কম, হয়ত পুরো সিলিন্ডার ভরবে না। গ্যাসের জন্য স্টেশনে স্টেশনে ঘুরে যেমন সময় গেল, তেমনি বাড়তি গ্যাসও খরচ হলো।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, গ্যাসের সমস্যার কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। পরে সিরিয়াল পেলেও দেখা যায় আমার দরকার হাজার টাকার গ্যাস, কিন্তু প্রেসার কম থাকায় তার অর্ধেকও পাই না। তাই আবার স্টেশনে আসতে হয়।

মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। এ স্টেশনে সকাল থেকে লাইনে গ্যাস থাকলেও দুপুরের পর একেবারেই নেই। তাই গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা।

ক্লিন ফুয়েলে স্টেশনের কর্মী শরীফুল ইসলাম বলেন, সকালে লাইনে কিছুটা গ্যাস ছিল কিন্তু দুপুরের পর থেকে নেই। গ্যাসের সংকট রমজানের আগেও এরকম ছিল। রমজানের শুরুতে একটু কম থাকলেও এখন আবার তা প্রকট হয়েছে। অসংখ্য গাড়ি এসে অপেক্ষা করে কিন্তু চাহিদামাফিক গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না। আর গ্যাস না থাকলে তো ফিরিয়েই দিতে হয়।

সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটের ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন এলপিজি বা অকটেন। এতে করে তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতি লিটার সিএনজি গ্যাসের বর্তমান দর ৪৩ টাকা, বিপরীতে প্রতি লিটার এলপিজি বা অটোগ্যাসের মূল্য ৬৬ টাকা ৪৩ পয়সা। আর যারা অকটেন ব্যবহার করছেন, তাদের লিটারপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১২৬ টাকা।

অটোগ্যাস ও অকটেন সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানি সরবরাহ করায় তা বেশির ভাগ সময়ই স্টেশনগুলোতে মজুত থাকে। সিএনজি গ্যাসের সংকট থাকায় অনেকে ব্যক্তিগত পরিবহনে বাধ্য হয়ে এসব জ্বালানি ব্যবহার করে থাকেন।

ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে আসা এলপিজির গ্রাহক জিয়াউল হক বলেন, সিএনজি গ্যাস নিতে চাইলেও তা না থাকায় এলপিজি নিচ্ছি। এতে খরচ বেশি পড়লেও কিছু করার নেই, গাড়ি তো চালাতে হবে।

এলপিজির পাশাপাশি অনেক গাড়ি অকটেন ব্যবহার করছে। যা অটোগ্যাসের তুলনায় ব্যয়বহুল। গ্রাহকরা বলছেন, প্রয়োজনীয়তা ও সহজলভ্যতার কারণে গ্যাসের বদলে তেল ব্যবহার করছেন তারা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা, গ্যাস মেলে অল্প

প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

রাজধানীর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আর যদিও পাওয়াও যায় তা চাহিদার তুলনায় সামান্য।

নগরীর বিভিন্ন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের প্রেসার কম থাকায় চাহিদামাফিক গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। এতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পেয়ে একদিকে ভোক্তার সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে খরচাও বাড়ছে।

কয়েকটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গ্রাহকরা চাহিদামতো গ্যাস রিফিল করতে পারছেন না। আবার কোনো কোনো স্টেশনে একেবারেই গ্যাস নেই। সে কারণে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থিত পিনাক্যাল পাওয়ার লিমিটেড রিফুয়েলিং স্টেশনে কথা হয় গ্রাহক ফয়সাল মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকে কয়েকটা গ্যাস স্টেশনে গিয়েছি। কোথাও গ্যাস নেই, কোথাওবা লম্বা লাইন। এখানে গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ কম, হয়ত পুরো সিলিন্ডার ভরবে না। গ্যাসের জন্য স্টেশনে স্টেশনে ঘুরে যেমন সময় গেল, তেমনি বাড়তি গ্যাসও খরচ হলো।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, গ্যাসের সমস্যার কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। পরে সিরিয়াল পেলেও দেখা যায় আমার দরকার হাজার টাকার গ্যাস, কিন্তু প্রেসার কম থাকায় তার অর্ধেকও পাই না। তাই আবার স্টেশনে আসতে হয়।

মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। এ স্টেশনে সকাল থেকে লাইনে গ্যাস থাকলেও দুপুরের পর একেবারেই নেই। তাই গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা।

ক্লিন ফুয়েলে স্টেশনের কর্মী শরীফুল ইসলাম বলেন, সকালে লাইনে কিছুটা গ্যাস ছিল কিন্তু দুপুরের পর থেকে নেই। গ্যাসের সংকট রমজানের আগেও এরকম ছিল। রমজানের শুরুতে একটু কম থাকলেও এখন আবার তা প্রকট হয়েছে। অসংখ্য গাড়ি এসে অপেক্ষা করে কিন্তু চাহিদামাফিক গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না। আর গ্যাস না থাকলে তো ফিরিয়েই দিতে হয়।

সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটের ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন এলপিজি বা অকটেন। এতে করে তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতি লিটার সিএনজি গ্যাসের বর্তমান দর ৪৩ টাকা, বিপরীতে প্রতি লিটার এলপিজি বা অটোগ্যাসের মূল্য ৬৬ টাকা ৪৩ পয়সা। আর যারা অকটেন ব্যবহার করছেন, তাদের লিটারপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১২৬ টাকা।

অটোগ্যাস ও অকটেন সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানি সরবরাহ করায় তা বেশির ভাগ সময়ই স্টেশনগুলোতে মজুত থাকে। সিএনজি গ্যাসের সংকট থাকায় অনেকে ব্যক্তিগত পরিবহনে বাধ্য হয়ে এসব জ্বালানি ব্যবহার করে থাকেন।

ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে আসা এলপিজির গ্রাহক জিয়াউল হক বলেন, সিএনজি গ্যাস নিতে চাইলেও তা না থাকায় এলপিজি নিচ্ছি। এতে খরচ বেশি পড়লেও কিছু করার নেই, গাড়ি তো চালাতে হবে।

এলপিজির পাশাপাশি অনেক গাড়ি অকটেন ব্যবহার করছে। যা অটোগ্যাসের তুলনায় ব্যয়বহুল। গ্রাহকরা বলছেন, প্রয়োজনীয়তা ও সহজলভ্যতার কারণে গ্যাসের বদলে তেল ব্যবহার করছেন তারা।