হৃদয় দ্রুত পরিপক্ব হচ্ছে: সিমন্স

- প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 11

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরিতে মুগ্ধ বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। অপরাজিত ২৪২ রান করে হৃদয় শুধু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডই গড়েননি, প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের অপ্রত্যাশিত লিডও পাইয়ে দেন স্বাগতিকদের।
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
শনিবার সকালে এক পর্যায়ে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে ছিল বাংলাদেশ। তার ওপর আগের দিন ফিল্ডিংয়ের সময় গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম। ফলে তখন ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় লিড পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল সফরকারীরা।
তবে সব হিসাবনিকাশ পাল্টে দেন তরুন ডানহাতি ব্যাটার হৃদয়। ৩৫৯ বলের মহাকাব্যিক ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষদিকে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গড়েন দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি। অষ্টম উইকেটে তাইজুলের (৫৬ বলে ২২ রান) সঙ্গে ১১৭ এবং নবম উইকেটে তাসকিনের (২৯ বলে ১২ রান) সঙ্গে ৮৫ রান যোগ করেন হৃদয়। তাতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৮৬ রান। এতে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড মেলে তাদের।
দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হৃদয়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের কোচ, ‘এটি ছিল অসাধারণ একটি ইনিংস। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছে সে। বাউন্ডারিতে ফিল্ডার থাকলেও সে ফাঁক খুঁজে বাউন্ডারি ও ছক্কা মারতে পেরেছে। এমনকি ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তখনও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সব দিক থেকেই এটি ছিল অসাধারণ প্রচেষ্টা।’
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
সিমন্স আরও বলেন, ‘খেলার পরিস্থিতি বোঝা, কোন শট খেলতে হবে এবং শেষ তিন ব্যাটারকে কখন স্ট্রাইক দিতে হবে— সবকিছুই সে অসাধারণভাবে করেছে।’
হৃদয়ের এই ইনিংস চাপ সামলে অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের বার্তা বহন করে। মিরপুরে সিরিজের আগের টেস্টের দুই ইনিংসেই বাজেভাবে আউট হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তার শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি অভিজ্ঞ মুমিনুল হক কনকাশনজনিত কারণে ছিটকে না গেলে এই ম্যাচে হৃদয়ের খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল।
হতাশা ঝেড়ে কীভাবে এমন মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন হৃদয়? এমন প্রশ্নে সিমন্স জানান, এর উত্তর সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন হৃদয় নিজেই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে হৃদয়ের দ্রুত পরিণত হয়ে ওঠার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।




















