শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
হৃদয়ের কাছেই রহস্যটা জানতে বললেন সিমন্স কালীগঞ্জে ২৫ জন অসহায় ব্যক্তিকে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন এমপি আবু তালিব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে সিরিজ, সাইফ–অক্ষয়ের সিনেমা, ওটিটিতে যা দেখবেন সাদমানকে নিয়ে দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ এআই যত দ্রুত কোড লিখছে, সফটওয়্যারের ‘কোয়ালিটি’ তত বড় চ্যালেঞ্জ জাঙ্গু-উইকহ্যামের ব্যাটে হতাশার সেশনে কেবল হাসানের সাফল্য মহাদেবপুরে ভেজাল কীটনাশক তৈরির কারখানায় অভিযান: ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ মালিকের কারাদণ্ড পাংশায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 15

যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন শুরু হয়েছে। দিবসের প্রথম দিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ।

পতাকা উত্তোলন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, “দিবসটির তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। ১৯৭১ সালে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে চাওয়া ও পাওয়ার ব্যবধানে জনগণের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এতে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তথ্যপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। জনপ্রিয় এই নেতাকে মুক্ত করে সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি ও সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছিল।”

ট্রেজারার আরও যোগ করেন, “সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে যে দেশের ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সম্ভব—তার প্রমাণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। এখন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারলেই এই দিবসের সার্থকতা অর্জিত হবে।”

দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মামুন সরকার।

দিবসটির দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে আগামী ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন শুরু হয়েছে। দিবসের প্রথম দিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ।

পতাকা উত্তোলন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, “দিবসটির তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। ১৯৭১ সালে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে চাওয়া ও পাওয়ার ব্যবধানে জনগণের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এতে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তথ্যপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। জনপ্রিয় এই নেতাকে মুক্ত করে সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি ও সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছিল।”

ট্রেজারার আরও যোগ করেন, “সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে যে দেশের ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সম্ভব—তার প্রমাণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। এখন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারলেই এই দিবসের সার্থকতা অর্জিত হবে।”

দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মামুন সরকার।

দিবসটির দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে আগামী ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।