স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন

- প্রকাশের সময় : ০৮:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 11

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে স্পর্শ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন। বরং তিনি পরীমনির বিরুদ্ধে মুঠোফোনে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।রবিউল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, পরীমনি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। সবকিছুই ভিডিওতে দেখা গেছে। ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে গত বৃহস্পতিবার চিত্রনায়িকা পরীমনি সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের বিরুদ্ধে তাঁকে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন। পরে সাংবাদিকদের সামনে রবিউলকে গালিগালাজ করেন।ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে যান পরীমনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য
২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দেন। ওই ঘটনায় নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আগেই সাভার থানায় মামলা করেছিলেন পরীমনি। এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। নাসির উদ্দিন জামিনে রয়েছেন।
পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর
নাসির উদ্দিনের মামলায় পরীমনির আদালতে আসার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সেখানে উপস্থিত হন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।পরীমনি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি হয়।এ সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। রবিউল বলেন, পরীমনিই তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন। তাঁর ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপড পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন। পরে পরীমনির হাত থেকে ফোনটি নিয়ে নেন তিনি।লিফটে কী ঘটেছিল, দুই পক্ষের বক্তব্যলিফটে ওঠার সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দেন পরীমনি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যখন লিফটে উঠছি, একজন আমারে উঠতে দেবে না। কোর্টের একটা টাইম আছে, সময়মতো আমাকে পৌঁছাতে হবে তো। মোবাইলটা আমার মাথার পাশ দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছে, একটা স্ট্যান্ডও ছিল। মোবাইলের জন্য লিফট কোনোভাবে বন্ধ হচ্ছিল না। আমি হাত দিয়ে মোবাইল সরিয়ে দিয়েছি। সরানোর পর মনে হলো, কেউ একজন আমার হাতটা ধরেছে।’
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা
পরীমনি বলেন, ‘যে দুজন আমাকে ধরছে, তাদের স্পর্শ তো আমি জানি। এ রকম ব্যথা দেওয়া টাইপ ধরা, খামচি মারা কী রকম করে ধরা যেন, আমি ব্যথা পাইছি। এ–ও মনে হয়েছিল, রাতুল (সঙ্গে থাকা একজন) আমাকে এভাবে ধরল কেন? তাকায়ে দেখি, ওই ছেলে (সাংবাদিক রবিউল হোসাইন)।’
‘কত বড় সাহস, গায়ে হাত দেয়’—আদালত চত্বরে ক্ষুব্ধ পরীমনি
পরীমনি আরও বলেন, ‘আমি চেহারাটা মনে রাখছি। জামিনের পর পুরো আদালতে যতক্ষণ হাঁটছি, ওরে আমি খুঁজছি। কাঠগড়ায় জামিন নিয়ে এসে নিচে নেমে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি তারে, এরপর বললাম, এদিকে আয়। তুই তোকারি করে ডাক দিয়েছি। আমার হাত এভাবে ধরলি কেন জিজ্ঞেস করতেই তখন দেখি সে বলছে, “আপা আমার ট্রাইপড ভেঙে দিয়েছে”। তখন আমার মনে হয়েছে, মাটির মধ্যে পুঁতে ফেলি। হাত উঠতে উঠতেও কেন জানি ওঠেনি।’পরীমনির অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল হোসাইন বলেন, তিনি লিফটে ওঠেননি। লিফটে ওঠার সময়ে এক কোনায় দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাঁর মুঠোফোন ও ট্রাইপডের কারণে লিফট বন্ধ হচ্ছিল না, এ ধরনের কথা মোটেও সত্য নয়।রবিউল আরও বলেন, ‘এখন আগে থেকে লিফটে থাকা কোনো ক্যামেরা পারসন কিংবা আইনজীবী, তাঁদের কারও কারণে লিফট বন্ধ হচ্ছিল না কি না, এটা আমার জানা নেই। পরীমনি লিফটে ঢোকার পথে আমার ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে নেন। লিফটে ওঠার সময় আমি উনার পথ আটকাব কেন, উনার চলার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা আমি কখনো তৈরি করিনি।’























