শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন হাসানের ৬ উইকেটের দাপটে ৩৫৬ রানে অলআউট উইন্ডিজ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরেক ধাক্কা, ২৫০ ফুট ‘ট্রাম্প তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার মতো অবস্থায় নেই সাদমান ২.৩ বিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ কিনছে উবার আলী যাকেরের প্রথম চড়েই মাটিতে পড়ে যান ফারুক আহমেদ কালীগঞ্জে মাদক, বাল্যবিয়ে ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান সাত ফরোয়ার্ডের বাংলাদেশ দলে গোল করার লোকের জন্য এমন হাহাকার কেন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর ৭ ব্যান্ড মাতাবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ

আলী যাকেরের প্রথম চড়েই মাটিতে পড়ে যান ফারুক আহমেদ

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5
আলী যাকেরের প্রথম চড়েই মাটিতে পড়ে যান ফারুক আহমেদ

পর্দায় তিনি রাগী গৃহকর্তা। বাড়ির গৃহকর্মীর কথার মাঝে বাগড়া দিলে কিংবা দরজায় উঁকি দিলেই কষিয়ে থাপ্পড় মারতেন। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হতেই বদলে যেত দৃশ্যটা। যাঁকে একটু আগে থাপ্পড় মেরেছেন, তাঁকেই বুকে টেনে নিতেন। ব্যথা লেগেছে কি না জানতে চাইতেন, দুঃখ প্রকাশ করতেন বারবার। সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে এভাবেই রয়ে গেছেন আলী যাকের—পর্দায় দাপুটে, পর্দার বাইরে স্নেহশীল এক মানুষ। আজ ৬ নভেম্বর আলী যাকেরের জন্মদিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া বরেণ্য এই অভিনেতার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক অনুজ সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে থাকা সেই মানুষটিকে। ফারুক আহমেদের অভিনয়জীবনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘আজ রবিবার’। সেখানে তাঁর চরিত্রের নাম মতি। আর আলী যাকের অভিনয় করেছিলেন বাড়ির বড় ছেলে আজগরের চরিত্রে। গল্পে আজগরকে বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর পড়াশোনা করতে দেখা যেত। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে তিনি কী করেন, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ ছিল না গৃহপরিচারক মতির। সুযোগ পেলেই দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেন। আর ধরা পড়ে প্রায়ই থাপ্পড় খেতে হতো তাঁকে। একবার তো দরজার ছিদ্র দিয়ে কালিও ছুড়ে মারেন আজগর।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

জন্ম ও বেড়ে ওঠা১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুরে জন্ম আলী যাকেরের। পরবর্তী জীবনে অভিনয়, নির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন তিনি।

পর্দায় দর্শককে হাসানো এসব দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে ফারুককে সত্যিই অনেকগুলো থাপ্পড় খেতে হয়েছিল। কারণ, একবারে শট ঠিকমতো হচ্ছিল না। সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে ফারুক জানিয়েছিলেন, ‘থাপ্পড় মারার শট ওকে না হওয়ার কারণে বারবার আলী যাকেরের হাতে আমাকে থাপ্পড় খেতে হচ্ছিল। প্রতিবার থাপ্পড় মেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। আমাকে আদর করে বলতেন, “ইশ্ রে, জোরে লেগেছে মনে হয়। মনে কষ্ট রেখো না।” আমি যতই তাঁকে বলি, ব্যথা পাইনি, কষ্ট নিইনি, তারপরও তিনি প্রতিবারই থাপ্পড়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন।’

মুক্তিযুদ্ধে শব্দসৈনিক১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগে কাজ করেন আলী যাকের। ইংরেজিতে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের খবর বাইরের বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ার সেই সংগ্রামে তাঁর কণ্ঠও হয়ে উঠেছিল একটি অস্ত্র।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

শুধু ‘আজ রবিবার’ নয়, হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিন বৃক্ষ’ নাটকেও আলী যাকেরের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার স্মৃতি আছে ফারুকের। নাটকের গল্পে একদল বিদেশি একটি অচিন গাছ দেখতে আসে। তাদের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন আলী যাকের। কাজের ছেলের চরিত্রে থাকা ফারুক বারবার সেই আলোচনায় কথা বলে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে দূরে ডেকে নিয়ে থাপ্পড় মারেন আলী যাকের।

‘কবর’ দিয়ে মঞ্চে যাত্রা১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আরণ্যক নাট্যদলের প্রযোজনায় মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে তাঁর পথচলা শুরু। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের বিকাশে পরে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান অভিনেতা, নির্দেশক ও সংগঠক।

ফারুকের ভাষায়, ‘যাকের ভাই ছিলেন স্বাস্থ্যবান, তাঁর হাতের পাঞ্জা ছিল মোটা। সেদিন প্রথম থাপ্পড় খেয়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। ব্যথায় আমার মাথা ঘুরতে থাকে। যাকের ভাই দ্রুত আমাকে তুলে নেন। দুঃখ প্রকাশ করেন। সেদিন সারাক্ষণ আমাকে আদর করে বলতে থাকেন, “মনে কষ্ট রাখিস না।”’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আলী যাকেরের প্রথম চড়েই মাটিতে পড়ে যান ফারুক আহমেদ

প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

পর্দায় তিনি রাগী গৃহকর্তা। বাড়ির গৃহকর্মীর কথার মাঝে বাগড়া দিলে কিংবা দরজায় উঁকি দিলেই কষিয়ে থাপ্পড় মারতেন। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হতেই বদলে যেত দৃশ্যটা। যাঁকে একটু আগে থাপ্পড় মেরেছেন, তাঁকেই বুকে টেনে নিতেন। ব্যথা লেগেছে কি না জানতে চাইতেন, দুঃখ প্রকাশ করতেন বারবার। সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে এভাবেই রয়ে গেছেন আলী যাকের—পর্দায় দাপুটে, পর্দার বাইরে স্নেহশীল এক মানুষ। আজ ৬ নভেম্বর আলী যাকেরের জন্মদিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া বরেণ্য এই অভিনেতার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক অনুজ সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে থাকা সেই মানুষটিকে। ফারুক আহমেদের অভিনয়জীবনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘আজ রবিবার’। সেখানে তাঁর চরিত্রের নাম মতি। আর আলী যাকের অভিনয় করেছিলেন বাড়ির বড় ছেলে আজগরের চরিত্রে। গল্পে আজগরকে বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর পড়াশোনা করতে দেখা যেত। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে তিনি কী করেন, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ ছিল না গৃহপরিচারক মতির। সুযোগ পেলেই দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেন। আর ধরা পড়ে প্রায়ই থাপ্পড় খেতে হতো তাঁকে। একবার তো দরজার ছিদ্র দিয়ে কালিও ছুড়ে মারেন আজগর।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য

জন্ম ও বেড়ে ওঠা১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুরে জন্ম আলী যাকেরের। পরবর্তী জীবনে অভিনয়, নির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন তিনি।

পর্দায় দর্শককে হাসানো এসব দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে ফারুককে সত্যিই অনেকগুলো থাপ্পড় খেতে হয়েছিল। কারণ, একবারে শট ঠিকমতো হচ্ছিল না। সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে ফারুক জানিয়েছিলেন, ‘থাপ্পড় মারার শট ওকে না হওয়ার কারণে বারবার আলী যাকেরের হাতে আমাকে থাপ্পড় খেতে হচ্ছিল। প্রতিবার থাপ্পড় মেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। আমাকে আদর করে বলতেন, “ইশ্ রে, জোরে লেগেছে মনে হয়। মনে কষ্ট রেখো না।” আমি যতই তাঁকে বলি, ব্যথা পাইনি, কষ্ট নিইনি, তারপরও তিনি প্রতিবারই থাপ্পড়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছিলেন।’

মুক্তিযুদ্ধে শব্দসৈনিক১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগে কাজ করেন আলী যাকের। ইংরেজিতে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের খবর বাইরের বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ার সেই সংগ্রামে তাঁর কণ্ঠও হয়ে উঠেছিল একটি অস্ত্র।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা

শুধু ‘আজ রবিবার’ নয়, হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিন বৃক্ষ’ নাটকেও আলী যাকেরের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার স্মৃতি আছে ফারুকের। নাটকের গল্পে একদল বিদেশি একটি অচিন গাছ দেখতে আসে। তাদের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন আলী যাকের। কাজের ছেলের চরিত্রে থাকা ফারুক বারবার সেই আলোচনায় কথা বলে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁকে দূরে ডেকে নিয়ে থাপ্পড় মারেন আলী যাকের।

‘কবর’ দিয়ে মঞ্চে যাত্রা১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আরণ্যক নাট্যদলের প্রযোজনায় মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে তাঁর পথচলা শুরু। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের বিকাশে পরে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান অভিনেতা, নির্দেশক ও সংগঠক।

ফারুকের ভাষায়, ‘যাকের ভাই ছিলেন স্বাস্থ্যবান, তাঁর হাতের পাঞ্জা ছিল মোটা। সেদিন প্রথম থাপ্পড় খেয়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। ব্যথায় আমার মাথা ঘুরতে থাকে। যাকের ভাই দ্রুত আমাকে তুলে নেন। দুঃখ প্রকাশ করেন। সেদিন সারাক্ষণ আমাকে আদর করে বলতে থাকেন, “মনে কষ্ট রাখিস না।”’