পরীমনির পাশে দাঁড়ালেন প্রভা, বললেন- ‘আমাকেও ব্যডটাচ করা হয়েছিল’

- প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 8

আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনির মেজাজ হারানোর ঘটনায় যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। পেশাগত পরিচয়ের কারণে কোনো পক্ষকে অন্ধ সমর্থন না দিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নিজের এক অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন প্রভা।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার একটি আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন পরীমনি। আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরীমনির অভিযোগ ছিল, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ওই সাংবাদিক তাঁর শরীরে স্পর্শ করেছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে প্রভা বলেন, “সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার আকুল অনুরোধ, ঢালাওভাবে নিজেদের সহকর্মীকে সমর্থন করবেন না। কারণ আমরা নারী শিল্পীরা প্রতিনিয়ত এ ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হই।”
নিজের সাম্প্রতিক এক তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে প্রভা জানান, একটি মেলায় গিয়ে তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের মুখোমুখি হন। সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় একজন গণমাধ্যমকর্মী অস্বাভাবিকভাবে তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়ান। প্রভা পিছিয়ে গেলেও ওই ব্যক্তি বারবার সামনে এগিয়ে আসছিলেন।
পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বাস করুন, ওই ব্যক্তি সাংবাদিক না হলে পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে প্রহার করতাম। আমি হেসে হেসে বলছিলাম যে, আপনি বুঝতে পারছেন না আমি অস্বস্তি বোধ করছি। একটু এদিক-সেদিক হলেই সেটি ‘ব্যাড টাচ’ হয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত নিজের ফোনটি সামনে ঢাল হিসেবে ধরে রেখেছিলাম, যাতে শারীরিক স্পর্শ এড়ানো যায়। পরে অন্য এক সাংবাদিক এসে তাঁকে সরিয়ে দেন।”
গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে পেশাদারত্বের চর্চা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, সহকর্মীদের এ ধরনের আচরণে কোনো শিল্পী অস্বস্তিবোধ করলে তা অন্যদেরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
পরীমনির ঘটনা প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, পুরো পরিস্থিতি যাচাই না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। পরীমনির অভিযোগ সত্য হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
একজন ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে পরীমনির সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিল্পী হলেও আমরা রক্ত-মাংসের মানুষ। আমাদেরও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চাপ থাকে। ফলে সব পরিস্থিতিতেই মেজাজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এমনটি আশা করা যায় না। শিল্পীদেরও মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে ঘটনার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।”























