নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরেক ধাক্কা, ২৫০ ফুট ‘ট্রাম্প তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা

- প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 18

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উঁচু মেগা তোরণ নির্মাণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের আইনি ধাক্কা এসেছে। দীর্ঘ আট ঘণ্টার উত্তপ্ত গণশুনানি শেষে প্রকল্পটির পক্ষে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সবুজ সংকেত দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় এর সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন আদালত।
মার্কিন জেলা জাজ তানিয়া চুটকান এক নির্দেশনায় জানান, মামলার নিষ্পত্তি বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত এলাকায় ট্রাম্প প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের নির্মাণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না। পরবর্তীতে প্রদত্ত এক স্মারকে বিচারক তীব্র যানজট সৃষ্টির ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এই স্থগিতাদেশের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও নগর নকশা তদারককারী অন্যতম প্রধান ফেডারেল সংস্থা ‘ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন’ (এনসিপিসি) এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ৮-৪ ভোটে বিতর্কিত এই তোরণ নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। তবে বৈঠকের আগেই সাবেক সেনাসদস্যসহ (ভেটেরান) ১২০ জনেরও বেশি নাগরিক প্রকল্পটি বাতিলের জোর আবেদন জানিয়েছিলেন। সমালোচকদের অভিযোগ, আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিশন তড়িঘড়ি করে এই অনুমোদন দেয়। ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম এই তোরণের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা।
এদিকে অনুমোদনের পরপরই যুদ্ধাহত সাবেক সেনাসদস্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদীদের পক্ষ থেকে একটি হাই-প্রোফাইল মামলা দায়ের করা হয়। বাদীদের প্রধান আইনি যুক্তি হলো—‘কমেমোরেটিভ ওয়ার্কস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ওয়াশিংটনে যেকোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও প্রশাসন তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এছাড়া তোরণটির বিশাল কাঠামোর কারণে লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন হাউসের মধ্যবর্তী ঐতিহাসিক সংযোগরেখা নষ্ট হবে এবং বীর শহীদদের শেষকৃত্যের গম্ভীর পরিবেশ ক্ষুণ্ন হবে বলে সাবেক সেনাসদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবিত স্থানটিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনীতিকরাও দিনভর বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ডন বায়ার বলেন, একজন ব্যক্তির আত্মম্ভরিতা মেটাতে গিয়ে বীর সেনাসদস্যদের স্মৃতিকে অবমাননা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চলছিল। গত অক্টোবরে ওভাল অফিসে এই তোরণের নকশা উন্মোচনের সময় সাংবাদিকরা তোরণটি কার স্মরণে তৈরি হচ্ছে জানতে চাইলে ট্রাম্প নিজের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি নির্মিত হচ্ছে। এমনকি ব্যস্ত ট্রাফিক সার্কেলের কাছে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ড্রোন ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের সামরিক কমপ্লেক্স হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদিও কমিশনের কাছে পেশ করা চূড়ান্ত নথিতে কোনো সামরিক ব্যবহারের উল্লেখ ছিল না।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের (এনপিএস) নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই তোরণটি লিঙ্কন মেমোরিয়াল, আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্র এবং পেন্টাগনসহ অন্তত ৪২টি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের দৃশ্যপট ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া আইন অনুযায়ী স্বাধীন সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই প্রশাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। এমনকি আদালতের অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক কাজ শুরু করার কথা স্বীকার করেছে।
আদালতের এই তাৎক্ষণিক আদেশের ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর নিজ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেও বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়লেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

























