‘নবাব’ আনোয়ার হোসেনকে মনে রাখেনি কেউ

- প্রকাশের সময় : ০৩:৩০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 4

আজ বরেণ্য অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের জন্মদিন। আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস লেখা হলে সেখানে অবধারিতভাবে আনোয়ার হোসেনের নাম আসার কথা। তবে ঢাকাই সিনেমার ‘নবাব’ প্রায় বিস্মৃতির অতলে হারাতে বসেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল তথ্য
২০১০ সালের ৩ এপ্রিল অভিনেতা আনোয়ার হোসেনকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। ওই দিন সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাঁর কোনো দুঃখ-কষ্ট আছে কি না? জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, ‘আমার একটাই কষ্ট, শারীরিক অক্ষমতার কারণে অভিনয় করতে পারি না।’ দীর্ঘদিন ধরে শরীরে নানা ধরনের রোগ ও বার্ধক্যের ক্রমাগত চাপের কারণে অভিনয় করতে পারেননি আনোয়ার হোসেন। সর্বশেষ কাজ করেছেন ২০০৬ সালে কাজী মোরশেদ পরিচালিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ‘ঘানি’ ছবিতে।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস লেখা হলে সেখানে অবধারিতভাবে আনোয়ার হোসেনের নাম আসার কথা। তবে ঢাকাই সিনেমার ‘নবাব’ প্রায় বিস্মৃতির অতলে হারাতে বসেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি কিংবা শিল্পী সমিতির কেউই তাঁকে আর মনে রাখেনি, আজ ১৩ সেপ্টেম্বর অনেকটা নীরবে কেটে গেল এই নায়কের মৃত্যুবার্ষিকী। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে এফডিসি বা শিল্পী সমিতিতে কোনো আয়োজন করা হয়নি। ফেসবুকে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোতে ছবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বটে, তবে সে অর্থে স্মরণ করেননি শিল্পী সমাজের কেউই।
আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ পাঁচ দশক দিনরাত কাজ করেছেন ছবির পর ছবিতে। তাঁর কাজ না করতে পারার দুঃখ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ১৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে ঢাকার চলচ্চিত্রের ‘নবাব’খ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেন মারা যান।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক আলোচনা
আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে। বাবা এ কে এম নাজির হোসেন ছিলেন জেলা সাব-রেজিস্ট্রার। ১৯৪০ সালে দেওয়ানগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন এবং স্কুলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন তিনি। ১৯৫১ সালে জামালপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ময়মনসিংহ কলেজে ভর্তি হন।
কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রাবস্থায় আসকার ইবনে শাইখের ‘পদক্ষেপ’ নাটকে অভিনয় করার পর থেকে নাটকের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাবার বন্ধু আবদুল্লাহ খানের ‘সেলকন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ফার্মে সুপারভাইজারের চাকরি নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ১৯৫৯ সালে ননী দাসের পরিচালনায় ‘এক টুকরো জমি’ নাটকে অভিনয় করেন। ঢাকা বেতারে অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হয়ে ‘হাতেম তাই’ নাটকে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে গিয়ে পরিচয় হয় আব্দুল জব্বার খান, মোহাম্মদ আনিস ও হাবিবুর রহমানের সঙ্গে।
ঝিনুক পত্রিকার সম্পাদক আসিরুদ্দিনের সহযোগিতায় মিনার্ভা থিয়েটার গঠন করেন। মিনার্ভা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন সৈয়দ হাসান ইমাম, ফতেহ লোহানী, মেহফুজ, সুভাষ দত্ত, চিত্রা সিনহাসহ অনেকে।























