বলবয় থেকে ভারতের জয়ের নায়ক সুহাইল, পাকিস্তানের আক্ষেপের হার

- প্রকাশের সময় : ০১:১৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 7

ম্যাচের যোগ করা সময়ে দুই গোল করে ব্যবধান কমিয়েছিল পাকিস্তান। এতে শেষ মুহূর্তে জয়ের আশা জেগেছিল দলটির সমর্থকদের মনে। কিন্তু প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারলে হয়তো ম্যাচের গল্পটা অন্য রকমও হতে পারত। শেষ পর্যন্ত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে পাকিস্তান।জাতীয় স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চে ঠাসা এই ম্যাচে ভারতের জয়ের নায়ক সুহাইল আহমদ ভাট। একসময় যিনি মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে বল কুড়িয়ে দিতেন, সেই সুহাইলই আজ ভারতের জাতীয় দলের হয়ে গোল করছেন। বলবয় থেকে গোলশিকারি হয়ে ওঠার গল্পটা যেন নিজের খেলাতেই নতুন করে লিখলেন তিনি।
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছোটবেলায় মাঠের পাশে বল কুড়িয়ে দিতেন বলবয় সুহাইল। গোলপোস্টের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যাতে বল বাইরে চলে গেলে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়। সেই মাঠের পাশ থেকে তিনি এখন ভারতের জাতীয় দলে। ২০২৫ সালের জুনে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের সিনিয়র দলে অভিষেক হলেও প্রথম ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন জোড়া গোল করে।ভারতের অন্য গোলটি করেছেন ম্যাংলেনথাং কিপগেন। তবে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন সুহাইলই। তাঁর গতি আর গোল করার দক্ষতায় তটস্থ থাকতে হয়েছে পাকিস্তানের রক্ষণভাগকে। দুই গোলের পর দুবারই পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিউ’ উদ্যাপন করেছেন তিনি। রোনালদোর মতো তাঁর জার্সি নম্বরও সাত।ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিটে) দারুণ এক হেডে গোল করেন নজিব উল্লাহ। ৯৪ মিনিটে আলমগীর গাজীর চোখধাঁধানো গোলে ব্যবধান আরও কমে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
অথচ প্রথমার্ধেই ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। স্পটকিক থেকে শায়েক দোস্তের নেওয়া শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ হারানোর আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে।অন্যদিকে সুহাইলের কাছে এই ম্যাচের মাহাত্ম্য অনেক বেশি। তাঁর ফুটবলযাত্রার পেছনে রয়েছে বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার ইচ্ছা। বাবা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ভাটও ফুটবল খেলতেন। কিন্তু পেশাদার ফুটবলার হওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। ছেলের মধ্যে নিজের সেই স্বপ্নের প্রতিফলন দেখেছেন তিনি।২০১৭ সালে জম্মু ও কাশ্মীর স্পোর্টস কাউন্সিলের ফুটবল একাডেমিতে যোগ দেন সুহাইল। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর এগিয়ে চলা। সুযোগ পান ভারতের বয়সভিত্তিক দলে। অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। ২০২২ সালে বিশ্বের সম্ভাবনাময় ৬০ তরুণ ফুটবলারের তালিকায় তাঁকে রেখেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।পেশাদার ফুটবলে পথচলা শুরু ইন্ডিয়ান অ্যারোজের হয়ে। পরে যোগ দেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলার জন্য বল জোগানো সেই কিশোর আজ ভারতের জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ঢাকায়ও নিজের নামটা নতুন করে চেনালেন।সুহাইলের এমন দিনে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির চিত্র অবশ্য ছিল কিছুটা বিবর্ণ।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই দুই দেশের সমর্থকদের বাড়তি আগ্রহ। রাজনৈতিক বৈরিতা আর ফুটবল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিলিয়ে এ লড়াই ঘিরে দর্শকদের কৌতূহলও থাকে তুঙ্গে। অথচ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই চেনা উত্তাপের দেখা মেলেনি। ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন প্রায় দুই হাজার দর্শক। বেশির ভাগ আসনই ছিল ফাঁকা।মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে ভারতের আধিপত্য আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দল এ নিয়ে মুখোমুখি হয়েছে ২৬ বার। এর মধ্যে ভারতের জয় ১৭টি, পাকিস্তানের ২টি। বাকি ৭ ম্যাচ হয়েছে ড্র।
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই দলের দেখা হয়েছে ১৩ বার। আজকের জয় নিয়ে প্রতিযোগিতায় ভারতের জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৯–এ। চারটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। পাকিস্তানের জয় মাত্র একটিতে। সেই জয়টিও ২০০৩ সালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। ২৩ বছর আগে এ মাঠেই ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। এবার একই মাঠে ৩ গোল হজম করে হারতে হলো তাদের।পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে ঢাকায় যোগ হলো নতুন এক গল্প। যে ছেলেটি একসময় মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের খেলার জন্য বল এগিয়ে দিতেন, সেই সুহাইলই এবার সাফের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের জালে বল পাঠালেন দুবার। বলবয়ের দিন পেরিয়ে তিনি এখন ভারতের জয়ের নায়ক।
সাফ ফুটবল নিয়ে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর





















