Dhaka ১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 42

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে লোকজনকে ধাওয়া করছেন ইশরাক। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। তাঁদের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সরকার বিব্রত হয়েছে বলেও তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন।

ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রবিবার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আত্মরক্ষার দাবি ইশরাকের

সমালোচনার মধ্যে রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, অভিযানের আগে মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর আশঙ্কার কথা জানতে পারেন। ঘটনাস্থলে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি মারমুখী ভঙ্গিতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে এলে নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইশরাক আরও দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানান, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। পরে তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর পুলিশকে আসতে বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালায় আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহনের সুযোগ থাকলেও অন্যের মনে ভয় সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন না করার বিধান রয়েছে।

এর আগে পদত্যাগ করেন মিষ্টি

এর আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম জড়ানোর পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় সরকার ও দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। যদিও হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন মিষ্টি।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানা গেল।

সূত্র: প্রথম আলো

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ১০:১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে লোকজনকে ধাওয়া করছেন ইশরাক। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। তাঁদের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সরকার বিব্রত হয়েছে বলেও তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন।

ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রবিবার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আত্মরক্ষার দাবি ইশরাকের

সমালোচনার মধ্যে রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, অভিযানের আগে মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর আশঙ্কার কথা জানতে পারেন। ঘটনাস্থলে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি মারমুখী ভঙ্গিতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে এলে নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইশরাক আরও দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানান, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। পরে তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর পুলিশকে আসতে বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালায় আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহনের সুযোগ থাকলেও অন্যের মনে ভয় সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন না করার বিধান রয়েছে।

এর আগে পদত্যাগ করেন মিষ্টি

এর আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম জড়ানোর পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় সরকার ও দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। যদিও হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন মিষ্টি।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানা গেল।

সূত্র: প্রথম আলো