Dhaka ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6

 

সম্প্রতি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি অনুষ্ঠানে যে স্যুট পরে হাজির হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটির ব্র্যান্ডের ট্যাগ দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা হলেও বিশ্ববাজারে পুরুষদের পোশাক সরবরাহে আবারও নজরে এসেছে বাংলাদেশের ভূমিকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেক্সটাইল টাইমস এক পোস্টে জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক সমাবেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জোস. এ. ব্যাংক-এর একটি নেভি ব্লু রঙয়ের স্যুট পরে উপস্থিত হন।

সমাবেশে ট্রাম্প গায়ে থেকে স্যুট জ্যাকেটটি খুলে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্যুটের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রাম্প আমদানি করা স্যুট পরেছেন।

ঘটনাটি তার দীর্ঘদিনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভাবমূর্তির সঙ্গে কিছুটা বেমানান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি- ট্রাম্পের বহুল প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের অযাচিত আলোচনা চলে আসছে, তা বিবেচনায় নিলে পোশাককে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে না রাখাই ভালো। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ, তিনি একজন ধনকুবের, যার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির সঙ্গে বিলাসিতা, আভিজাত্য ও সম্পদের প্রদর্শন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।

ট্রাম্পের স্যুটের ট্যাগটি জোস এ. ব্যাংকের ‘ট্রাভেলার’ সংগ্রহের স্যুটের আলাদা অংশের ট্যাগের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। ব্র্যান্ডটির কালো রঙের বড় ও লম্বা গড়নের পুরুষদের জন্য তৈরি একটি স্যুটের দাম বর্তমানে ছাড়ে ২৭৯ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি সহজে কুঁচকে যায় না এবং দাগ প্রতিরোধী। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য এটি ব্যবহারিক একটি পোশাক হতে পারে।

তবে ট্যাগের মিল থেকে ট্রাম্পের পরা স্যুটটির সঠিক মডেল বা দাম নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

স্যুটটি কি বাংলাদেশে তৈরি?

ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ এর সম্ভাব্য উৎপাদনস্থল। জোস এ. ব্যাংক বৃহত্তর পোশাক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টেইলর্ড ব্র্যান্ডসের অংশ। এই গোষ্ঠীর মালিকানায় রয়েছে ‘মেনস ওয়্যারহাউস’ ব্র্যান্ডটিও।

গোষ্ঠীটির কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। এর মধ্যে তাদের ‘জোসেফ অ্যাবাউড’ ব্র্যান্ডের কিছু পোশাকের দাম প্রায় ৭০০ ডলার। জোস এ. ব্যাংকের ‘আমেরিকান বেসপোক’ নামের একটি সংগ্রহও রয়েছে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে ওই সংগ্রহের ট্যাগের সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাকে দেখা ট্যাগের মিল নেই।

এ কারণে ট্রাম্পের স্যুটটি চীন কিংবা বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পোশাকটির উৎপাদনস্থল নিশ্চিত করা যায়নি।

যদি স্যুটটি সত্যিই বিদেশে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য তৈরি করতে পারে। কারণ, তার অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো।

অবশ্য বিদেশে তৈরি একটি স্যুট পরা মানেই তার প্রশাসনের উৎপাদননীতি ব্যর্থ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের অনলাইন স্টোরে বিক্রি হওয়া ‘ভাইনইয়ার্ড ভাইন্স’ ব্র্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টাইয়ের দাম ১২৫ ডলার। কিন্তু একটি দেশীয় টাই ব্যবহার করা আর পুরো পোশাক দেশেই তৈরি হওয়া এক বিষয় নয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা মানুষের সঙ্গে কি সংযোগ তৈরি করতে চান?

ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে সমালোচনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তার অতিরিক্ত লম্বা টাই নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের মৃদু আবহাওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ওভারকোট ও গ্লাভস পরা নিয়েও সমালোচকেরা কটাক্ষ করেছিলেন। এবার স্যুটের ট্যাগও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের কেউ কেউ ট্রাম্পের এই পোশাক পছন্দকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে পারেন। সাশ্রয়ী পোশাক ব্যবহারিক এবং মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে- এমন বার্তা এতে তৈরি হতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে কি স্যুটের ট্যাগ দেখিয়েছেন?

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মতো তার সমালোচকেরাও অনেক সময় সাধারণ ঘটনাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। সে কারণে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, স্যুটের ট্যাগটি কি ইচ্ছাকৃতভাবে দেখানো হয়েছিল, যাতে তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি বলে মনে হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের মতো দেখানোর জন্য পোশাক ব্যবহারের নজির অবশ্য রয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সোয়েটার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকের মতো দেখতে শিকারের জ্যাকেট কিংবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের কাউবয় বুট- এসব পোশাকও একসময় আলোচনায় এসেছিল।

তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে স্যুটের ট্যাগ দেখানোটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে নাচার সময় তিনি স্যুটের সামনের অংশ খুললে ট্যাগটি দৃশ্যমান হয়। ফলে এটি নিছক অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ‘ফ্লোরশেইম’ ব্র্যান্ডের জুতা কিনেছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং কাজের উপযোগী জুতার ব্র্যান্ড। তখন ট্রাম্প জুতাগুলোকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্নিকার্সের পরিবর্তে এগুলো পরার পক্ষে মত দেন।

এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাক বাছাইয়ের রুচি হয়তো কিছুটা বদলাচ্ছে। তবে তা যেকোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।

পোশাকের প্রচারেও কি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?

ট্রাম্প অতীতে নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেছেন। জর্জিয়ার একটি মামলায় গ্রেফতারের পর তোলা তার মাগশট ছবির সময় পরা স্যুটের কাপড়ের নমুনাও বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া বাইবেল, ঘড়ি, স্টেক, ওয়াইন ও পানির মতো পণ্যও তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ হয়েছে।

তাই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, জোস এ. ব্যাংক ব্র্যান্ডের ট্যাগ দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পোশাকটি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, সেটি হলো লাল রঙের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ টুপি। তার জনপ্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এই টুপির দাম তার অনলাইন স্টোরে ৫৫ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।

শেষ পর্যন্ত স্যুটের ট্যাগটি ট্রাম্পের পোশাকের পছন্দে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নিছক অনিচ্ছাকৃত দৃশ্য, নাকি তার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্কের উপলক্ষ- তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র: সিএনএন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’?

প্রকাশের সময় : ০১:৫১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

সম্প্রতি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি অনুষ্ঠানে যে স্যুট পরে হাজির হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটির ব্র্যান্ডের ট্যাগ দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা হলেও বিশ্ববাজারে পুরুষদের পোশাক সরবরাহে আবারও নজরে এসেছে বাংলাদেশের ভূমিকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেক্সটাইল টাইমস এক পোস্টে জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক সমাবেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জোস. এ. ব্যাংক-এর একটি নেভি ব্লু রঙয়ের স্যুট পরে উপস্থিত হন।

সমাবেশে ট্রাম্প গায়ে থেকে স্যুট জ্যাকেটটি খুলে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্যুটের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রাম্প আমদানি করা স্যুট পরেছেন।

ঘটনাটি তার দীর্ঘদিনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভাবমূর্তির সঙ্গে কিছুটা বেমানান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি- ট্রাম্পের বহুল প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের অযাচিত আলোচনা চলে আসছে, তা বিবেচনায় নিলে পোশাককে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে না রাখাই ভালো। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ, তিনি একজন ধনকুবের, যার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির সঙ্গে বিলাসিতা, আভিজাত্য ও সম্পদের প্রদর্শন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।

ট্রাম্পের স্যুটের ট্যাগটি জোস এ. ব্যাংকের ‘ট্রাভেলার’ সংগ্রহের স্যুটের আলাদা অংশের ট্যাগের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। ব্র্যান্ডটির কালো রঙের বড় ও লম্বা গড়নের পুরুষদের জন্য তৈরি একটি স্যুটের দাম বর্তমানে ছাড়ে ২৭৯ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি সহজে কুঁচকে যায় না এবং দাগ প্রতিরোধী। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য এটি ব্যবহারিক একটি পোশাক হতে পারে।

তবে ট্যাগের মিল থেকে ট্রাম্পের পরা স্যুটটির সঠিক মডেল বা দাম নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

স্যুটটি কি বাংলাদেশে তৈরি?

ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ এর সম্ভাব্য উৎপাদনস্থল। জোস এ. ব্যাংক বৃহত্তর পোশাক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টেইলর্ড ব্র্যান্ডসের অংশ। এই গোষ্ঠীর মালিকানায় রয়েছে ‘মেনস ওয়্যারহাউস’ ব্র্যান্ডটিও।

গোষ্ঠীটির কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। এর মধ্যে তাদের ‘জোসেফ অ্যাবাউড’ ব্র্যান্ডের কিছু পোশাকের দাম প্রায় ৭০০ ডলার। জোস এ. ব্যাংকের ‘আমেরিকান বেসপোক’ নামের একটি সংগ্রহও রয়েছে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে ওই সংগ্রহের ট্যাগের সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাকে দেখা ট্যাগের মিল নেই।

এ কারণে ট্রাম্পের স্যুটটি চীন কিংবা বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পোশাকটির উৎপাদনস্থল নিশ্চিত করা যায়নি।

যদি স্যুটটি সত্যিই বিদেশে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য তৈরি করতে পারে। কারণ, তার অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো।

অবশ্য বিদেশে তৈরি একটি স্যুট পরা মানেই তার প্রশাসনের উৎপাদননীতি ব্যর্থ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের অনলাইন স্টোরে বিক্রি হওয়া ‘ভাইনইয়ার্ড ভাইন্স’ ব্র্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টাইয়ের দাম ১২৫ ডলার। কিন্তু একটি দেশীয় টাই ব্যবহার করা আর পুরো পোশাক দেশেই তৈরি হওয়া এক বিষয় নয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা মানুষের সঙ্গে কি সংযোগ তৈরি করতে চান?

ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে সমালোচনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তার অতিরিক্ত লম্বা টাই নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের মৃদু আবহাওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ওভারকোট ও গ্লাভস পরা নিয়েও সমালোচকেরা কটাক্ষ করেছিলেন। এবার স্যুটের ট্যাগও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের কেউ কেউ ট্রাম্পের এই পোশাক পছন্দকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে পারেন। সাশ্রয়ী পোশাক ব্যবহারিক এবং মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে- এমন বার্তা এতে তৈরি হতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে কি স্যুটের ট্যাগ দেখিয়েছেন?

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মতো তার সমালোচকেরাও অনেক সময় সাধারণ ঘটনাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। সে কারণে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, স্যুটের ট্যাগটি কি ইচ্ছাকৃতভাবে দেখানো হয়েছিল, যাতে তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি বলে মনে হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের মতো দেখানোর জন্য পোশাক ব্যবহারের নজির অবশ্য রয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সোয়েটার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকের মতো দেখতে শিকারের জ্যাকেট কিংবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের কাউবয় বুট- এসব পোশাকও একসময় আলোচনায় এসেছিল।

তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে স্যুটের ট্যাগ দেখানোটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে নাচার সময় তিনি স্যুটের সামনের অংশ খুললে ট্যাগটি দৃশ্যমান হয়। ফলে এটি নিছক অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ‘ফ্লোরশেইম’ ব্র্যান্ডের জুতা কিনেছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং কাজের উপযোগী জুতার ব্র্যান্ড। তখন ট্রাম্প জুতাগুলোকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্নিকার্সের পরিবর্তে এগুলো পরার পক্ষে মত দেন।

এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাক বাছাইয়ের রুচি হয়তো কিছুটা বদলাচ্ছে। তবে তা যেকোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।

পোশাকের প্রচারেও কি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?

ট্রাম্প অতীতে নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেছেন। জর্জিয়ার একটি মামলায় গ্রেফতারের পর তোলা তার মাগশট ছবির সময় পরা স্যুটের কাপড়ের নমুনাও বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া বাইবেল, ঘড়ি, স্টেক, ওয়াইন ও পানির মতো পণ্যও তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ হয়েছে।

তাই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, জোস এ. ব্যাংক ব্র্যান্ডের ট্যাগ দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পোশাকটি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, সেটি হলো লাল রঙের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ টুপি। তার জনপ্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এই টুপির দাম তার অনলাইন স্টোরে ৫৫ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।

শেষ পর্যন্ত স্যুটের ট্যাগটি ট্রাম্পের পোশাকের পছন্দে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নিছক অনিচ্ছাকৃত দৃশ্য, নাকি তার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্কের উপলক্ষ- তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র: সিএনএন