মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক
- প্রকাশের সময় : ১০:২০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ও হামলার হুমকি বাড়তে থাকায় সক্রিয় করা হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ত্রিপাক্ষিক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি। চুক্তি সক্রিয় করার পাশাপাশি সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।
সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত এবং তিন দেশের নিজ নিজ জাতীয় আইন অনুসরণ করেই সামরিক মোতায়েনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তিন দেশের যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা ও মদিনাসহ সৌদি আরবের শহর, বেসামরিক জনগণ এবং অর্থনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছে দুই মিত্র দেশ।
রিয়াদ বৈঠকে শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা
রিয়াদের বৈঠকে তিন দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা, কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু।
পাকিস্তানের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ।
সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।
এ ছাড়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি জেনারেল
জোটের কমিটি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে তিন বছরের মেয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
জোটভুক্ত তিন দেশ বলেছে, একটি সদস্য দেশের নিরাপত্তা অন্য দুই দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তারও অবিচ্ছেদ্য অংশ। যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা করছে।
আগস্টে স্বাক্ষরিত হয়েছিল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করে আসছিল তিন দেশ। আগস্টে ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানরা বৈঠক করেন। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে সামরিক প্রধানদের আরেক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
হুথিদের ধারাবাহিক হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা হুমকি বাড়ার মধ্যেই এবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সরাসরি সামরিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।



















