Dhaka ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত

সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

বাজার মানেই বিভিন্ন ধরনের জিনিসের সম্ভার। আলু, পটল, চাল-ডাল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনসঙ্গীও যে বাজারে কিনতে পাওয়া যায় সেই গল্প সচরাচর শুনতে পাওয়া যায় না। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও কয়েক শতক ধরে এমনই রীতি চালু রয়েছে ভারতের বিহারের মধুবনী জেলায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সভায় মূলত মৈথিলী ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের পুরুষেরা সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে অংশ নেন। তারা দূরদূরান্ত থেকে এসে নিজেদের যোগ্যতা ও পরিচয় তুলে ধরে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। অনেকের গলায় ঝোলানো থাকে নিজেদের ‘মূল্য’ লেখা কাগজ।

তবে ওই কাগজে লেখা অঙ্কই চূড়ান্ত নয়। কনের পরিবারের সদস্যরা পাত্রের সঙ্গে দরদাম করতে পারেন। সাধারণত প্রায় ৫০ হাজার রুপি থেকে দর শুরু হয়ে তা আড়াই থেকে তিন লাখ রুপি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাত্রের বয়স, চেহারা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশার মতো বিষয় বিবেচনা করে কনের পরিবার তার ‘মূল্য’ নির্ধারণ করে। বয়স কম হলে সাধারণত দামও বেশি হয়। তবে ৩০ বছরের বেশি বয়সী পাত্রদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দর পাওয়া যায়।

এই প্রথার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। কর্নাট রাজবংশের রাজা হরি সিংহ এই ঐতিহ্যের প্রচলন করেছিলেন বলে জানা যায়। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিবাহের প্রচলন এবং যৌতুকপ্রথা বন্ধ করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের উপযুক্ত পুরুষেরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বাজারের গাছের নিচে অবস্থান করতেন।

সৌরথ সভায় মেয়েরা সাধারণত মা-বাবার সঙ্গে পাত্র দেখতে আসেন। কোনো পাত্র পছন্দ হলে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এরপর পাত্রের শিক্ষা, পেশা ও পারিবারিক পরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন স্থানীয় ‘পঞ্জিকর’রা। তারা পাত্র ও কনের পরিবারের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কের ইতিহাস যাচাই করেন। সৌরথ সভার নিয়ম অনুযায়ী, বাবার দিক থেকে সাত প্রজন্ম এবং মায়ের দিক থেকে পাঁচ প্রজন্মের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক থাকা যাবে না।

সবকিছু যাচাই শেষে সম্পর্ক অনুমোদন করা হলে অনেক ক্ষেত্রে ওই সভাতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। পঞ্জিকররা বিয়ের নথিও সংরক্ষণ করেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যের জনপ্রিয়তা কমছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ ধরনের প্রথা অনুসরণের আগ্রহ আগের তুলনায় কমেছে। ফলে সৌরথ সভায় আগের মতো ভিড়ও দেখা যায় না। তারপরও বিহারের সৌরথ গ্রামে প্রতি বছর এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাজার মানেই বিভিন্ন ধরনের জিনিসের সম্ভার। আলু, পটল, চাল-ডাল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনসঙ্গীও যে বাজারে কিনতে পাওয়া যায় সেই গল্প সচরাচর শুনতে পাওয়া যায় না। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও কয়েক শতক ধরে এমনই রীতি চালু রয়েছে ভারতের বিহারের মধুবনী জেলায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সভায় মূলত মৈথিলী ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের পুরুষেরা সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে অংশ নেন। তারা দূরদূরান্ত থেকে এসে নিজেদের যোগ্যতা ও পরিচয় তুলে ধরে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করেন। অনেকের গলায় ঝোলানো থাকে নিজেদের ‘মূল্য’ লেখা কাগজ।

তবে ওই কাগজে লেখা অঙ্কই চূড়ান্ত নয়। কনের পরিবারের সদস্যরা পাত্রের সঙ্গে দরদাম করতে পারেন। সাধারণত প্রায় ৫০ হাজার রুপি থেকে দর শুরু হয়ে তা আড়াই থেকে তিন লাখ রুপি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাত্রের বয়স, চেহারা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশার মতো বিষয় বিবেচনা করে কনের পরিবার তার ‘মূল্য’ নির্ধারণ করে। বয়স কম হলে সাধারণত দামও বেশি হয়। তবে ৩০ বছরের বেশি বয়সী পাত্রদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দর পাওয়া যায়।

এই প্রথার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। কর্নাট রাজবংশের রাজা হরি সিংহ এই ঐতিহ্যের প্রচলন করেছিলেন বলে জানা যায়। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিবাহের প্রচলন এবং যৌতুকপ্রথা বন্ধ করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের উপযুক্ত পুরুষেরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বাজারের গাছের নিচে অবস্থান করতেন।

সৌরথ সভায় মেয়েরা সাধারণত মা-বাবার সঙ্গে পাত্র দেখতে আসেন। কোনো পাত্র পছন্দ হলে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এরপর পাত্রের শিক্ষা, পেশা ও পারিবারিক পরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন স্থানীয় ‘পঞ্জিকর’রা। তারা পাত্র ও কনের পরিবারের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কের ইতিহাস যাচাই করেন। সৌরথ সভার নিয়ম অনুযায়ী, বাবার দিক থেকে সাত প্রজন্ম এবং মায়ের দিক থেকে পাঁচ প্রজন্মের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক থাকা যাবে না।

সবকিছু যাচাই শেষে সম্পর্ক অনুমোদন করা হলে অনেক ক্ষেত্রে ওই সভাতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। পঞ্জিকররা বিয়ের নথিও সংরক্ষণ করেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যের জনপ্রিয়তা কমছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ ধরনের প্রথা অনুসরণের আগ্রহ আগের তুলনায় কমেছে। ফলে সৌরথ সভায় আগের মতো ভিড়ও দেখা যায় না। তারপরও বিহারের সৌরথ গ্রামে প্রতি বছর এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।