Dhaka ০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, উত্তাল সাগরে ১৮ জেলে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আজও শাটডাউন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হবে মাদক-জুয়া প্রতিরোধ কমিটি : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দেবাশীষ রায় চৌধুরীর শপথ এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে এক রাতে আটক ৬২৪

ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, উত্তাল সাগরে ১৮ জেলে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে আটকা পড়ে আছেন ১৮ জেলে। বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় এখনো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ট্রলারটি রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর উপকূলের আশপাশের সাগরে ভাসছে। জেলেদের উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা ভোলার চরফ্যাশন ঘাট থেকে মাছ ধরতে সাগরে যান। পরে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা সাগরে আটকা পড়েন।

মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতেও বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর খুব উত্তাল। আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলেও তারাও উত্তাল সাগরের কারণে এগিয়ে আসতে পারেনি।

জেলেদের বিপদের খবর পাওয়ার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন মৎস্য ব্যবসায়ী জুনায়েত হাসান। একই সঙ্গে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে উদ্ধারের সহযোগিতা চান তিনি।

জুনায়েত হাসান বলেন, পাঁচ দিন হয়ে গেল। এখনো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি, কিন্তু সাগরের পরিস্থিতির কারণে কেউ এগিয়ে যেতে পারছে না।

রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় ও সোনারচর এলাকার বোট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্র অশান্ত থাকায় কেউ বোট নিয়ে উদ্ধারে যেতে রাজি হননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি কোস্টগার্ডের হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নৌবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রলারটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারা।

কোস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রলারে থাকা জেলেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। একবার ফোনে সংযোগ পাওয়া গেলেও পরে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

তিনি আরও জানান, ট্রলার মালিকের মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ট্রলারটি সোনারচর উপকূলের আশপাশের সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে ট্রলারটি বর্তমানে ঠিক কত দূরে বা কোন অবস্থানে রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাঙ্গাবালী থানার ইন্সপেক্টর (চার্জ অফিসার) রিয়াজ মুন্সি বলেন, ‘আমার কাছে সর্বশেষ যতটুকু জানা রয়েছে, তাতে জেলেদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মূলত বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র ও আশপাশের নদীগুলো উত্তাল থাকায় সমস্যা হচ্ছে।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘উদ্ধারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুখবর নেই। নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছে না।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, উত্তাল সাগরে ১৮ জেলে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ

প্রকাশের সময় : ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে আটকা পড়ে আছেন ১৮ জেলে। বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় এখনো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ট্রলারটি রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর উপকূলের আশপাশের সাগরে ভাসছে। জেলেদের উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা ভোলার চরফ্যাশন ঘাট থেকে মাছ ধরতে সাগরে যান। পরে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা সাগরে আটকা পড়েন।

মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতেও বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর খুব উত্তাল। আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলেও তারাও উত্তাল সাগরের কারণে এগিয়ে আসতে পারেনি।

জেলেদের বিপদের খবর পাওয়ার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন মৎস্য ব্যবসায়ী জুনায়েত হাসান। একই সঙ্গে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে উদ্ধারের সহযোগিতা চান তিনি।

জুনায়েত হাসান বলেন, পাঁচ দিন হয়ে গেল। এখনো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি, কিন্তু সাগরের পরিস্থিতির কারণে কেউ এগিয়ে যেতে পারছে না।

রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় ও সোনারচর এলাকার বোট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্র অশান্ত থাকায় কেউ বোট নিয়ে উদ্ধারে যেতে রাজি হননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি কোস্টগার্ডের হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নৌবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রলারটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারা।

কোস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রলারে থাকা জেলেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। একবার ফোনে সংযোগ পাওয়া গেলেও পরে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

তিনি আরও জানান, ট্রলার মালিকের মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ট্রলারটি সোনারচর উপকূলের আশপাশের সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে ট্রলারটি বর্তমানে ঠিক কত দূরে বা কোন অবস্থানে রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাঙ্গাবালী থানার ইন্সপেক্টর (চার্জ অফিসার) রিয়াজ মুন্সি বলেন, ‘আমার কাছে সর্বশেষ যতটুকু জানা রয়েছে, তাতে জেলেদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মূলত বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র ও আশপাশের নদীগুলো উত্তাল থাকায় সমস্যা হচ্ছে।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘উদ্ধারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুখবর নেই। নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো উপায় পাওয়া যাচ্ছে না।’