Dhaka ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালীগঞ্জে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন এমপি আবু তালিব নওগাঁয় ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ১০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ বেনাপোলে শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর ইউরিয়া ও টিএসপি সংকটে কয়রার কৃষক, আমন আবাদে মারাত্মক হুমকি শহীদ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর ১২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে কয়রায় ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন: ‘নৌকা’ স্থগিত, যুক্ত হলো ‘না’ প্রতীক নেপাল লিগে দল পেলেন আকবর আলী, পোখারায় সাকিব সংসদের তিন অধিবেশনে খরচ ৭০৩ কোটি টাকা দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ইউরিয়া ও টিএসপি সংকটে কয়রার কৃষক, আমন আবাদে মারাত্মক হুমকি

এসকে এম মহসিন রেজা, কয়রা (খুলনা)
  • প্রকাশের সময় : ০২:২০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15

আমনের ভরা মৌসুমে খুলনার কয়রা উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সার সংকট। মাঠে ধান রোপণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাটে-বাজারে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও টিএসপি সার না পাওয়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। প্রয়োজনীয় সারের অভাবে উপকূলীয় এই অঞ্চলে আসন্ন আমন আবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে কয়রা বাজার, ফুলতলা, নারানপুর বাজার, ভান্ডারপোল, গিলাবাড়ি ও আমাদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারের জন্য কৃষকরা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছোটাছুটি করছেন। বেশিরভাগ দোকানেই পর্যাপ্ত সার নেই। কোথাও বা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
গিলাবাড়ি বাজারে সার কিনতে আসা কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। দুয়েক জায়গায় পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট আরও বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
খান সাহেব কোমরউদ্দীন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও স্থানীয় কৃষক আশরাফুল আলম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন দিন ধরে ইউনিয়নের সার ডিলার ও ওয়ার্ডের সাব-ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হয়েছি। শুধু আমি একা নন, আমার মতো শত শত কৃষকের একই দশা। ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি, অথচ সার দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ২০ কেজি! এই সামান্য সার দিয়ে কীসের ফসল হবে?”
কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প পরিমাণ সার পাওয়ায় সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে চলতি মৌসুমে আমন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সার সংকটের এই বিষয়ে কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক ঘোষ বলেন, তিনি গিলাবাড়ি বাজারে সরেজমিন তদন্ত করেছেন এবং সেখানে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সত্যতা পাননি। তবে মাঠপর্যায়ের চরম সংকটের চিত্রের সঙ্গে কৃষি বিভাগের এই বক্তব্যের মিল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকরা।
অবিলম্বে সার সংকট নিরসন ও কালোবাজারি রোধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কয়রার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমন আবাদ মুখ থুবড়ে পড়বে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইউরিয়া ও টিএসপি সংকটে কয়রার কৃষক, আমন আবাদে মারাত্মক হুমকি

প্রকাশের সময় : ০২:২০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমনের ভরা মৌসুমে খুলনার কয়রা উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সার সংকট। মাঠে ধান রোপণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাটে-বাজারে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও টিএসপি সার না পাওয়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। প্রয়োজনীয় সারের অভাবে উপকূলীয় এই অঞ্চলে আসন্ন আমন আবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে কয়রা বাজার, ফুলতলা, নারানপুর বাজার, ভান্ডারপোল, গিলাবাড়ি ও আমাদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারের জন্য কৃষকরা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছোটাছুটি করছেন। বেশিরভাগ দোকানেই পর্যাপ্ত সার নেই। কোথাও বা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
গিলাবাড়ি বাজারে সার কিনতে আসা কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। দুয়েক জায়গায় পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট আরও বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
খান সাহেব কোমরউদ্দীন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও স্থানীয় কৃষক আশরাফুল আলম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন দিন ধরে ইউনিয়নের সার ডিলার ও ওয়ার্ডের সাব-ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হয়েছি। শুধু আমি একা নন, আমার মতো শত শত কৃষকের একই দশা। ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি, অথচ সার দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ২০ কেজি! এই সামান্য সার দিয়ে কীসের ফসল হবে?”
কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প পরিমাণ সার পাওয়ায় সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে চলতি মৌসুমে আমন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সার সংকটের এই বিষয়ে কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক ঘোষ বলেন, তিনি গিলাবাড়ি বাজারে সরেজমিন তদন্ত করেছেন এবং সেখানে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সত্যতা পাননি। তবে মাঠপর্যায়ের চরম সংকটের চিত্রের সঙ্গে কৃষি বিভাগের এই বক্তব্যের মিল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকরা।
অবিলম্বে সার সংকট নিরসন ও কালোবাজারি রোধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কয়রার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমন আবাদ মুখ থুবড়ে পড়বে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।