রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

ভিসা নথির জালিয়াতি কমাতে পারে ভিজিবল ডিজিটাল সিল

মামুন হোসেন
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
ভিসা নথির জালিয়াতি কমাতে পারে ভিজিবল ডিজিটাল সিল

ভিসা আবেদনের সময় জমা দেওয়া বিভিন্ন নথির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা ধরনের সমস্যার  মুখোমুখি হন অনেকে। তবে ভিসা আবেদনের নথিতে ভিজিবল ডিজিটাল সিল (ভিডিএস) যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বিশেষ প্রযুক্তির এই ডিজিটাল সিলে ইস্যু করা ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর থাকে। ফলে নথির কোনো অংশ পরিবর্তন বা জাল করা হলে তা সহজেই ধরা পড়ে। ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে সক্ষম এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড (আরভিএল)। আজ রোববার রাজধানীর গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও মূল বৈশিষ্ট্য

আরভিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ জানান, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ক্রমাগত বাড়ছে। এ সমস্যার মূল কারণ আবেদনকারীরা নন; বরং নথির প্রতি আস্থার ঘাটতি। ব্যাংক বিবরণী, সনদ ও বেতন-সংক্রান্ত কাগজপত্র জাল করা সহজ হলেও বিদেশি মিশনগুলো দ্রুত এসব নথি যাচাই করতে পারে না। এর ফলে কিছুসংখ্যক প্রতারকের কারণে প্রতিটি আবেদনকারীকেই বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হয় এবং প্রকৃত শিক্ষার্থী ও কর্মীরা প্রত্যাখ্যানের শিকার হন। আরভিএলের তৈরি ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।রাশেদ মাহমুদ আরও জানান, আরভিএলের তৈরি ভিজিবল ডিজিটাল সিল সাধারণ কিউআর কোডের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য। কারণ, এতে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত দ্বিমাত্রিক কোড থাকে। প্রতিটি ভিডিএসে থাকা তথ্য পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পিকেআই) প্রযুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়। তথ্য যাচাইয়ের পর ডিজিটাল সিল দেওয়ার পর ইস্যু করা প্রতিষ্ঠানও নথির কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে পারে না। ফলে যাচাইকারীরা নিশ্চিত হতে পারেন, নথিটি কে ইস্যু করেছে, তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে কি না বা নথিটি বৈধ না অবৈধ।

সেমিনারে জানানো হয়, কাগজ ও পিডিএফ—উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী ভিজিবল ডিজিটাল সিলে সামান্য পরিবর্তন করলেও সিল ভেঙে যায়, ফলে কারচুপি ধরা পড়ে। ভেরিকিউআর অ্যাপ ব্যবহার করে যেকোনো দেশের যেকোনো কর্তৃপক্ষ কয়েক সেকেন্ডে এটি যাচাই করতে পারে। যাচাইয়ের জন্য ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ই–মেইল বা ফোন করার প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া ইস্যু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান নথি-ব্যবস্থায় সহজেই এটি যুক্ত করা যায়। আর তাই ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহার করা হচ্ছে।ভিসা ও অভিবাসন আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ, বিমা নথি এবং বিবাহ সনদে ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহার করা সম্ভব। এর পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক নিবন্ধন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, পারমিট এবং বিমা খাতেও ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ জানান, অল্পসংখ্যক ভিসা আবেদনে জাল বা যাচাই-অযোগ্য নথি থাকায় কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি খুঁটিয়ে প্রতিটি আবেদন দেখতে হয়। এর ফলে ভিসা আবেদন পর্যালোচনায় বেশি সময় ও শ্রম প্রয়োজন হয়। ভিডিএসের মতো প্রযুক্তি কম সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।সেমিনারে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হকসহ সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভিসা নথির জালিয়াতি কমাতে পারে ভিজিবল ডিজিটাল সিল

প্রকাশের সময় : ০৯:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ভিসা আবেদনের সময় জমা দেওয়া বিভিন্ন নথির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা ধরনের সমস্যার  মুখোমুখি হন অনেকে। তবে ভিসা আবেদনের নথিতে ভিজিবল ডিজিটাল সিল (ভিডিএস) যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বিশেষ প্রযুক্তির এই ডিজিটাল সিলে ইস্যু করা ব্যক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষর থাকে। ফলে নথির কোনো অংশ পরিবর্তন বা জাল করা হলে তা সহজেই ধরা পড়ে। ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে সক্ষম এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড (আরভিএল)। আজ রোববার রাজধানীর গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও মূল বৈশিষ্ট্য

আরভিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ জানান, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ক্রমাগত বাড়ছে। এ সমস্যার মূল কারণ আবেদনকারীরা নন; বরং নথির প্রতি আস্থার ঘাটতি। ব্যাংক বিবরণী, সনদ ও বেতন-সংক্রান্ত কাগজপত্র জাল করা সহজ হলেও বিদেশি মিশনগুলো দ্রুত এসব নথি যাচাই করতে পারে না। এর ফলে কিছুসংখ্যক প্রতারকের কারণে প্রতিটি আবেদনকারীকেই বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হয় এবং প্রকৃত শিক্ষার্থী ও কর্মীরা প্রত্যাখ্যানের শিকার হন। আরভিএলের তৈরি ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।রাশেদ মাহমুদ আরও জানান, আরভিএলের তৈরি ভিজিবল ডিজিটাল সিল সাধারণ কিউআর কোডের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য। কারণ, এতে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত দ্বিমাত্রিক কোড থাকে। প্রতিটি ভিডিএসে থাকা তথ্য পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পিকেআই) প্রযুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়। তথ্য যাচাইয়ের পর ডিজিটাল সিল দেওয়ার পর ইস্যু করা প্রতিষ্ঠানও নথির কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে পারে না। ফলে যাচাইকারীরা নিশ্চিত হতে পারেন, নথিটি কে ইস্যু করেছে, তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে কি না বা নথিটি বৈধ না অবৈধ।

সেমিনারে জানানো হয়, কাগজ ও পিডিএফ—উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী ভিজিবল ডিজিটাল সিলে সামান্য পরিবর্তন করলেও সিল ভেঙে যায়, ফলে কারচুপি ধরা পড়ে। ভেরিকিউআর অ্যাপ ব্যবহার করে যেকোনো দেশের যেকোনো কর্তৃপক্ষ কয়েক সেকেন্ডে এটি যাচাই করতে পারে। যাচাইয়ের জন্য ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ই–মেইল বা ফোন করার প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া ইস্যু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান নথি-ব্যবস্থায় সহজেই এটি যুক্ত করা যায়। আর তাই ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহার করা হচ্ছে।ভিসা ও অভিবাসন আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ, বিমা নথি এবং বিবাহ সনদে ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহার করা সম্ভব। এর পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক নিবন্ধন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, পারমিট এবং বিমা খাতেও ভিজিবল ডিজিটাল সিল ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ জানান, অল্পসংখ্যক ভিসা আবেদনে জাল বা যাচাই-অযোগ্য নথি থাকায় কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি খুঁটিয়ে প্রতিটি আবেদন দেখতে হয়। এর ফলে ভিসা আবেদন পর্যালোচনায় বেশি সময় ও শ্রম প্রয়োজন হয়। ভিডিএসের মতো প্রযুক্তি কম সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।সেমিনারে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হকসহ সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।