তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার অভিযোগ: ১০০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ, ১২৫ প্রতিষ্ঠানের তথ্য তলব

- প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 14

তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে প্রায় ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।
এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে।
তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন সালমান এফ রহমান, নসরুল হামিদ, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম ও তাজুল ইসলাম।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে টুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচির নাম রয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এনবিআর সূত্র আরও জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের জামাই আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তাঁদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার কেউ পলাতক। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এনবিআরের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়ায় তদন্ত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তাঁরা।
এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া নির্দেশনার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোও এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
























