মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
এসবি ও শিল্প পুলিশ প্রধানসহ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ১৩০তম হয়েও বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা পেল লাখ টাকা করে পুরস্কার ২৫ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার! কে এই কাব্য নাটকীয় ম্যাচে চট্টগ্রামের ১ উইকেটের জয়, সাদিকুরের সেঞ্চুরি মা–বাবার সঙ্গে ছোট্ট আনায়া, অপূর্বকন্যার মিষ্টি ছবি ছয় সন্তানকে বড় করেও শেষ বয়সে গাছের নিচে ঠাঁই ৯৫ বছরের বৃদ্ধ পিতার তিন ম্যাচ খেলার পর আদালত বললেন দল অবৈধ ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের চাহিদা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি

তিন ম্যাচ খেলার পর আদালত বললেন দল অবৈধ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2
তিন ম্যাচ খেলার পর আদালত বললেন দল অবৈধ

ভারতের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফিতে অদ্ভুত এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে মেঘালয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্লেট গ্রুপে প্রথম তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকার পরও চতুর্থ ম্যাচে পুরো একাদশ বদলে ফেলেছে দলটি। সেটাও কোনো ক্রিকেটীয় কারণে নয়।রঞ্জি ট্রফির এবারের আসরে প্রথম তিন ম্যাচে ভালোই খেলেছিল মেঘালয়। সিকিম ও মিজোরামের বিপক্ষে ড্র করেছে, সঙ্গে জিতেছে মণিপুরের বিপক্ষে। তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকা দলটি ২ নভেম্বর নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচে নামে সম্পূর্ণ নতুন একাদশ নিয়ে।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

মূল কারণ মেঘালয় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) অভ্যন্তরীণ বিরোধ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সেই খবরই দিচ্ছে।মেঘালয়ের সংবাদমাধ্যম হাইল্যান্ড পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমসিএ সভাপতি জেমস পিকে সাংমার সঙ্গে সংস্থাটির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের অন্য সদস্যদের বিরোধের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দল প্রথম তিন ম্যাচে মেঘালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। কিন্তু মেঘালয় হাইকোর্টের এক রায়ে ওই দলকে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচনা করা হয়। এরপর সাংমার পক্ষ থেকে নতুন দল মাঠে নামানো হয়।

সরফরাজের টানা চার বাউন্সার, আম্পায়ার নিশ্চুপ, প্রতিবাদে ম্যাচ ছেড়ে দিলেন ভারত অধিনায়ক

নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত আগের দলের খেলোয়াড়েরা মাঠের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের জায়গায় সাংমার পক্ষ থেকে নির্বাচিত ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন। শুধু ছেলেদের দল নয়, অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ ও নারী দলের ক্ষেত্রেও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দলগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইল্যান্ড পোস্ট।এর আগে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দলগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই দলের ক্রিকেটাররাই রঞ্জি ট্রফির প্রথম তিন ম্যাচে মেঘালয়ের হয়ে খেলেছিলেন।এ বিষয়ে হাইল্যান্ড পোস্টকে জেমস সাংমা বলেন, ‘খেলোয়াড় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচক কমিটি। আমি এতে হস্তক্ষেপ করব না। আমাদের এমন খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা খেলাটিকে ভালোবাসেন এবং এটিকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবেও দেখেন। তাঁদের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।’মেঘালয়ের কোচ নীতেশ শর্মা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘খেলোয়াড়েরা ভীষণ হতাশ। তবে আমরা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইনি। আমাদের অবৈধ বলা হচ্ছে, কিন্তু এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা, ছেলেদের কোনো দোষ নেই।’

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

ক্রিকেটে পুরো একাদশ বদলে দেওয়ার ঘটনা বিরল হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমের অ্যাশেজে। অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টে খেলা পুরো একাদশ দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে নতুন ১১ জনকে খেলাতে বাধ্য হয় অস্ট্রেলিয়া। তাঁদের মধ্যে ৯ জনেরই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক।

আগের তিন ম্যাচের একাদশ: কিশান লিংডোহ (অধিনায়ক), অর্পিত ভাটেওয়ারা (উইকেটকিপার), কেভিন ক্রিস্টোফার, অজয় দাহান, রাহুল দালাল, স্বস্তিক ছেত্রী, জাসকিরাত সিং সচদেবা, বিপিন রায়, রাম গুরুং, আরিয়ান বোরা ও অভিষেক কুমার।নতুন একাদশ: জীবনজ্যোৎ সিং (অধিনায়ক), শ্রীনিবাস শরৎ (উইকেটকিপার), রাজ বিসওয়া, বামনভা শ্যাংপ্লিয়াং, জোসিয়া মমিন, অক্ষয় কার্নেওয়ার, স্বরাজিৎ দাস, দিপ্পু সাংমা, আকাশ চৌধুরী, মনীশ শর্মা ও নাফিস সিদ্দিকী।

আইপিএলে খেলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ আমির

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

তিন ম্যাচ খেলার পর আদালত বললেন দল অবৈধ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফিতে অদ্ভুত এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে মেঘালয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্লেট গ্রুপে প্রথম তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকার পরও চতুর্থ ম্যাচে পুরো একাদশ বদলে ফেলেছে দলটি। সেটাও কোনো ক্রিকেটীয় কারণে নয়।রঞ্জি ট্রফির এবারের আসরে প্রথম তিন ম্যাচে ভালোই খেলেছিল মেঘালয়। সিকিম ও মিজোরামের বিপক্ষে ড্র করেছে, সঙ্গে জিতেছে মণিপুরের বিপক্ষে। তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকা দলটি ২ নভেম্বর নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচে নামে সম্পূর্ণ নতুন একাদশ নিয়ে।

খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত

মূল কারণ মেঘালয় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) অভ্যন্তরীণ বিরোধ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সেই খবরই দিচ্ছে।মেঘালয়ের সংবাদমাধ্যম হাইল্যান্ড পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমসিএ সভাপতি জেমস পিকে সাংমার সঙ্গে সংস্থাটির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের অন্য সদস্যদের বিরোধের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দল প্রথম তিন ম্যাচে মেঘালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। কিন্তু মেঘালয় হাইকোর্টের এক রায়ে ওই দলকে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচনা করা হয়। এরপর সাংমার পক্ষ থেকে নতুন দল মাঠে নামানো হয়।

সরফরাজের টানা চার বাউন্সার, আম্পায়ার নিশ্চুপ, প্রতিবাদে ম্যাচ ছেড়ে দিলেন ভারত অধিনায়ক

নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত আগের দলের খেলোয়াড়েরা মাঠের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের জায়গায় সাংমার পক্ষ থেকে নির্বাচিত ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন। শুধু ছেলেদের দল নয়, অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ ও নারী দলের ক্ষেত্রেও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দলগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইল্যান্ড পোস্ট।এর আগে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের নির্বাচিত দলগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই দলের ক্রিকেটাররাই রঞ্জি ট্রফির প্রথম তিন ম্যাচে মেঘালয়ের হয়ে খেলেছিলেন।এ বিষয়ে হাইল্যান্ড পোস্টকে জেমস সাংমা বলেন, ‘খেলোয়াড় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচক কমিটি। আমি এতে হস্তক্ষেপ করব না। আমাদের এমন খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা খেলাটিকে ভালোবাসেন এবং এটিকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবেও দেখেন। তাঁদের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।’মেঘালয়ের কোচ নীতেশ শর্মা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘খেলোয়াড়েরা ভীষণ হতাশ। তবে আমরা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইনি। আমাদের অবৈধ বলা হচ্ছে, কিন্তু এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা, ছেলেদের কোনো দোষ নেই।’

ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

ক্রিকেটে পুরো একাদশ বদলে দেওয়ার ঘটনা বিরল হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমের অ্যাশেজে। অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টে খেলা পুরো একাদশ দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে নতুন ১১ জনকে খেলাতে বাধ্য হয় অস্ট্রেলিয়া। তাঁদের মধ্যে ৯ জনেরই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক।

আগের তিন ম্যাচের একাদশ: কিশান লিংডোহ (অধিনায়ক), অর্পিত ভাটেওয়ারা (উইকেটকিপার), কেভিন ক্রিস্টোফার, অজয় দাহান, রাহুল দালাল, স্বস্তিক ছেত্রী, জাসকিরাত সিং সচদেবা, বিপিন রায়, রাম গুরুং, আরিয়ান বোরা ও অভিষেক কুমার।নতুন একাদশ: জীবনজ্যোৎ সিং (অধিনায়ক), শ্রীনিবাস শরৎ (উইকেটকিপার), রাজ বিসওয়া, বামনভা শ্যাংপ্লিয়াং, জোসিয়া মমিন, অক্ষয় কার্নেওয়ার, স্বরাজিৎ দাস, দিপ্পু সাংমা, আকাশ চৌধুরী, মনীশ শর্মা ও নাফিস সিদ্দিকী।

আইপিএলে খেলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন মোহাম্মদ আমির