Dhaka ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শায় এসএসসি-দাখিলে হতাশাজনক ফল, তিন প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

বেনাপোল প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2

 

যশোরের শার্শা উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে এসএসসি ও দাখিল—কোনো বিভাগেই শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ৩৩টি মাদরাসা থেকে ৮৩৭ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮১২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৪২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের চারজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। আর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বাকি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনোটি শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি।

এসএসসিতে ২ হাজার ৩০০ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ২৬১ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫০২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৬ জন। উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস.এম. সুলতান মাহমুদ।

এসএসসি ফলাফলে উপজেলার শীর্ষে রয়েছে নাভারন বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেনাপোল মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে নয়জন।

উপজেলার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আরও হতাশাজনক। সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক চারজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করালেও তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষক সংকটের কারণে যথাযথভাবে পাঠদান করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন।

এ ছাড়া বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় ১২ জন শিক্ষক ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করালেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় নয়জন শিক্ষক ২৩ জন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়েও কোনো শিক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেননি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তাদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক রাজনীতি ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় পাঠদানে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারছেন না। দেরিতে প্রতিষ্ঠানে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণেও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে শিক্ষকদের দাবি, তারা নিয়মিত পাঠদান করেন। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয় বা মাদরাসায় না এলে অভিভাবকদের জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন না বলে দাবি শিক্ষকদের।

তবে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ফল বিপর্যয়ের কারণ হয়ে থাকলে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত করা এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর উদ্যোগ কতটা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার একেএম নুরুজ্জামান বলেন, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত হলেও আগের ফলাফলের তুলনায় এবার তাদের ফলাফল অনেক খারাপ হয়েছে। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কেন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শার্শায় এসএসসি-দাখিলে হতাশাজনক ফল, তিন প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

প্রকাশের সময় : ০৯:০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

যশোরের শার্শা উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে এসএসসি ও দাখিল—কোনো বিভাগেই শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ৩৩টি মাদরাসা থেকে ৮৩৭ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮১২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৪২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের চারজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। আর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বাকি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনোটি শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি।

এসএসসিতে ২ হাজার ৩০০ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ২৬১ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫০২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৬ জন। উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস.এম. সুলতান মাহমুদ।

এসএসসি ফলাফলে উপজেলার শীর্ষে রয়েছে নাভারন বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেনাপোল মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে নয়জন।

উপজেলার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আরও হতাশাজনক। সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক চারজন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করালেও তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষক সংকটের কারণে যথাযথভাবে পাঠদান করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন।

এ ছাড়া বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় ১২ জন শিক্ষক ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করালেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় নয়জন শিক্ষক ২৩ জন পরীক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়েও কোনো শিক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেননি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তাদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক রাজনীতি ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় পাঠদানে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারছেন না। দেরিতে প্রতিষ্ঠানে আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণেও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে শিক্ষকদের দাবি, তারা নিয়মিত পাঠদান করেন। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয় বা মাদরাসায় না এলে অভিভাবকদের জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন না বলে দাবি শিক্ষকদের।

তবে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ফল বিপর্যয়ের কারণ হয়ে থাকলে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত করা এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর উদ্যোগ কতটা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার একেএম নুরুজ্জামান বলেন, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত হলেও আগের ফলাফলের তুলনায় এবার তাদের ফলাফল অনেক খারাপ হয়েছে। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কেন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।