Dhaka ১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিদায়বেলায় কাঁদলেন ইউএনও, চাইলেন দোয়া

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 74

কেশবপুরের মানুষের ভালোবাসার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে বদলিজনিত কারণে বিদায় নিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় কর্মস্থল কেশবপুরকে বিদায় জানান এই কর্মকর্তা।

সোমবার বিকেলে বিদায়বেলায় সহকর্মী ও স্থানীয়দের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রেকসোনা খাতুন। একপর্যায়ে তাঁর চোখে পানি চলে আসে এবং কণ্ঠ ভারী হয়ে যায়। উপস্থিত অনেকের চোখেও তখন অশ্রু দেখা যায়।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন রেকসোনা খাতুন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনকালে মানবিকতা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।

দায়িত্ব পালনকালে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক আচরণ ও সহজে যোগাযোগের সুযোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন আন্তরিক সম্পর্ক।

বিদায় অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁর কর্মময় সময়ের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য শুনে রেকসোনা খাতুনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিদায়ী ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘কেশবপুরে দায়িত্ব পালন আমার কর্মজীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা আমি কখনো ভুলব না। কর্মজীবনের প্রয়োজনে কেশবপুর ছাড়লেও এখানকার মানুষ ও অসংখ্য স্মৃতি আমার হৃদয়ে থেকে যাবে।’

একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক বিদায় হলেও উপস্থিত মানুষের ভালোবাসায় মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আপনজনকে বিদায় জানানোর মতো আবেগঘন। দায়িত্বের টানে রেকসোনা খাতুন কেশবপুর ছেড়ে গেলেও তাঁর মানবিকতা ও আন্তরিকতার স্মৃতি স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিদায়বেলায় কাঁদলেন ইউএনও, চাইলেন দোয়া

প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

কেশবপুরের মানুষের ভালোবাসার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে বদলিজনিত কারণে বিদায় নিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় কর্মস্থল কেশবপুরকে বিদায় জানান এই কর্মকর্তা।

সোমবার বিকেলে বিদায়বেলায় সহকর্মী ও স্থানীয়দের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রেকসোনা খাতুন। একপর্যায়ে তাঁর চোখে পানি চলে আসে এবং কণ্ঠ ভারী হয়ে যায়। উপস্থিত অনেকের চোখেও তখন অশ্রু দেখা যায়।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন রেকসোনা খাতুন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনকালে মানবিকতা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।

দায়িত্ব পালনকালে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক আচরণ ও সহজে যোগাযোগের সুযোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন আন্তরিক সম্পর্ক।

বিদায় অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁর কর্মময় সময়ের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য শুনে রেকসোনা খাতুনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিদায়ী ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘কেশবপুরে দায়িত্ব পালন আমার কর্মজীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা আমি কখনো ভুলব না। কর্মজীবনের প্রয়োজনে কেশবপুর ছাড়লেও এখানকার মানুষ ও অসংখ্য স্মৃতি আমার হৃদয়ে থেকে যাবে।’

একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক বিদায় হলেও উপস্থিত মানুষের ভালোবাসায় মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আপনজনকে বিদায় জানানোর মতো আবেগঘন। দায়িত্বের টানে রেকসোনা খাতুন কেশবপুর ছেড়ে গেলেও তাঁর মানবিকতা ও আন্তরিকতার স্মৃতি স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে।