মান্দায় হানিট্রাপের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, তিনজন গ্রেপ্তার
- প্রকাশের সময় : ০৬:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 4
নওগাঁর মান্দায় হানিট্রাপের ফাঁদে ফেলে এলজিইডির এক কার্যসহকারীকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে একটি ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তানজিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে ফোন করে তিনি আলমগীরের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরদিন ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় গেলে তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ।
সেখানে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে কাবু করার পর পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে তানজিমা খাতুনকে দিয়ে জড়িয়ে ধরিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চক্রটি ১০ লাখ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এ সময় ভুক্তভোগীর মানিব্যাগ থেকে ৬ হাজার ৭০০ টাকা নগদ এবং তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে মান-সম্মানের ভয়ে আলমগীর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। পরে স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকবই আনা হলে আসামিরা চাপ সৃষ্টি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে আসামিরা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখা থেকে ওই চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের জন্য গেলে ভুক্তভোগী আলমগীরের কাছ থেকে খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন ও ইসরাফিল নামে আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর চেকটি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশের পৃথক অভিযানে তানজিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।























