কোটালীপাড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা
- প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 122
আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পিতার জানাজায় অংশ নিয়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর রাত ১১টার দিকে কোটালীপাড়া পৌর ভবন মাঠে অনুষ্ঠিত পিতার জানাজায় অংশ নেন তিনি। জানাজা শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
কামাল হোসেন শেখের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান (৯৭) শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে কোটালীপাড়া পৌরসভার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
শেখ লুৎফর রহমান কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।
পিতার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কামাল হোসেন শেখকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে তাকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে পিতার মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কামাল হোসেন শেখ। তার কান্না দেখে উপস্থিত স্বজনরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘কোটালীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। পিতার মৃত্যুর কারণে তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় এসে পিতার জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এদিকে শনিবার বাদ আসর কোটালীপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দুটি জানাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।






















