Dhaka ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে : রিজভী ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ জন জেআইসিতে আটকে তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল : চিফ প্রসিকিউটর নওগাঁয় ডিবির অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, ভেবেচিন্তে করবেন: আইনমন্ত্রী জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় : প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী মশা দমনে যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ জন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:২৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 4

দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৫ হাজার ৪৯৭টি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ৬ হাজার ৩১৪টি ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরি মিলে ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য। বাস ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ২ দশমিক ৭২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা, যানজট ও মোটরসাইকেলের সহজলভ্যতার কারণে এর ব্যবহার বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো বন্ধ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ জন

প্রকাশের সময় : ০২:২৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৫ হাজার ৪৯৭টি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ৬ হাজার ৩১৪টি ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরি মিলে ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য। বাস ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ২ দশমিক ৭২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা, যানজট ও মোটরসাইকেলের সহজলভ্যতার কারণে এর ব্যবহার বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো বন্ধ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।