মাছ ধরতে গিয়ে জেলে যেভাবে খুঁজে পেলেন বৃষ্টির মরদেহ
- প্রকাশের সময় : ১২:২০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 22
মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের চোখে ধরা পড়ে এক ভয়াবহ দৃশ্য, যা মুহূর্তেই উন্মোচন করে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন হত্যাকাণ্ডের নতুন অধ্যায়। সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে কায়াক চালিয়ে মাছ ধরার সময় একটি দুর্গন্ধযুক্ত কালো ব্যাগ দেখে সন্দেহ হয় তার। কাছে গিয়ে খুলতেই মিলল মানবদেহ, পরে যা নাহিদা বৃষ্টির বলে শনাক্ত করা হয়।
হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানান, জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ পান। ঝোপের ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগটি আংশিক খোলা ছিল এবং ভেতরে লোনাপানি ঢুকে পড়েছিল। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, সেখানে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহটি পচে যাওয়ায় শনাক্তে ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের সহায়তা নিতে হয়। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টি যে পোশাক পরেছিলেন, মরদেহে একই ধরনের পোশাক থাকায় প্রাথমিকভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়।
নিহত নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায়, আর ১৮ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন। তদন্তে লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার চশমা, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়।
ফরেনসিক বিশ্লেষণে অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘর ও অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর কক্ষে বিপুল রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এমনকি প্রযুক্তির সহায়তায় মেঝেতে একটি মানবদেহের ক্ষুদ্র ছাপও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান শেরিফ।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত তার ফোন থেকে তথ্য মুছে ফেললেও তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তার সার্চ হিস্ট্রি ও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে হত্যার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছুরি দিয়ে খুলি ভাঙা, গুলির শব্দ শোনা যাবে কি না কিংবা মরদেহ গুমের উপায়—এমন নানা প্রশ্ন সে করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, বৃষ্টির মরদেহ গাড়ির ট্রাংকে করে সরানো হয়েছিল। অন্যদিকে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায় একটি ব্যাগে, হাত-পা বাঁধা অবস্থায়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
তবে এখনো হত্যার মূল কারণ বা মোটিভ স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে।
সূত্রঃ এনবিসি

























