Dhaka ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জাপানে বিপুল জনশক্তি পাঠানোর প্রস্তুতি বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 111

জাপানে চলমান দক্ষ কর্মী সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (SSW) ক্যাটাগরির ১৬টি খাতে বিপুলসংখ্যক জনশক্তি পাঠাতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এই ক্যাটাগরিতে ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে এই চাহিদার অন্তত ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব।

আগে এই ক্যাটাগরির মাত্র ছয়টি খাতে জনশক্তি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সব খাতেই দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার। সেখানে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিলে বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক কর্মসংস্থান (ESD) ও SSW ক্যাটাগরিতে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে কর্মীদের জাপানি ভাষা, রীতি-নীতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষক তৈরি, জাপানি সহায়তায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্কিল ট্রেনিং।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)-এর অধীনে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু হয়েছে এবং ১৫টিতে অনলাইন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ চলছে। বেসরকারি খাতেও ২০০টির বেশি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে জাপানে কর্মী পাঠাতে অনুমোদিত ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্ট রয়েছে।

শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে ৪ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও ২০২৬ সালে তা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারের মতে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাপানে বিপুল জনশক্তি পাঠানোর প্রস্তুতি বাংলাদেশের

প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জাপানে চলমান দক্ষ কর্মী সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (SSW) ক্যাটাগরির ১৬টি খাতে বিপুলসংখ্যক জনশক্তি পাঠাতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

জাপান সরকার ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এই ক্যাটাগরিতে ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে এই চাহিদার অন্তত ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব।

আগে এই ক্যাটাগরির মাত্র ছয়টি খাতে জনশক্তি পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সব খাতেই দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার। সেখানে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিলে বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক কর্মসংস্থান (ESD) ও SSW ক্যাটাগরিতে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে কর্মীদের জাপানি ভাষা, রীতি-নীতি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষক তৈরি, জাপানি সহায়তায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্কিল ট্রেনিং।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)-এর অধীনে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু হয়েছে এবং ১৫টিতে অনলাইন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ চলছে। বেসরকারি খাতেও ২০০টির বেশি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে জাপানে কর্মী পাঠাতে অনুমোদিত ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্ট রয়েছে।

শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে ৪ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও ২০২৬ সালে তা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারের মতে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে।