বসতবাড়ি বিক্রি করেও ভারত যাওয়া হলো না রতিকান্তের, সীমান্ত থেকে লাশ উদ্ধার
- প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 15
ভারতে থাকা স্ত্রী-সন্তানদের কাছে যেতে জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করেছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রতিকান্ত জয়ধর (৪৬)। তবে তার সেই যাত্রা আর সম্পন্ন হয়নি। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশপুর থানা পুলিশ পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রতিকান্ত জয়ধর কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে তার স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর চার সন্তান—রতন, নয়ন, রত্না ও রিয়াকে নিয়ে ভারতে কলকাতায় চলে যান। এরপর রতিকান্ত কয়েকবার সেখানে গেলেও স্থায়ীভাবে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন রতিকান্ত। তবে তিনি কোন পথে বা কার মাধ্যমে ভারতে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাউকে কিছু জানাননি।
নিহতের ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধর জানান, “ভাই মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পাই। পরে মহেশপুরে গিয়ে লাশ শনাক্ত করি।”
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইছামতি নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের সঙ্গে থাকা একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তার বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান চমন-ই-এলাহী বলেন, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার পথে অনেকেই প্রতারণা ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
রতিকান্ত জয়ধর কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেই সঙ্গে তার হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।




















