সংস্কারের পক্ষে কথা বলা বর্তমান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব : প্রেস উইং
- প্রকাশের সময় : ০৪:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 181
সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সংস্কারপন্থি অবস্থান গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটিকে কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যায় না।
রোববার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছে, তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেটের আলোকে ভিত্তিহীন।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের অপশাসন, জনঅনাস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গত সময়ে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। যে সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, সেই সরকারের পক্ষে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সংস্কার থেকে নিজেকে দূরে রাখার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া স্বাভাবিক। গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সরাসরি মতামত জানার একটি উপায়। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলে ভোটাররা আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের বৈধতা নেতাদের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না; বরং ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত দেওয়ার সুযোগ, বিরোধী মত প্রকাশের অধিকার এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর নির্ভর করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব শর্ত অক্ষুণ্ন রয়েছে।
জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য জোরজবরদস্তি নয়, বরং সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। ক্রান্তিকালীন সময়ে এ ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক এবং একে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনৈতিক বলা যায় না।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট থেকেই আসে। তাই সংস্কারের পক্ষে কথা বলা কোনো নীতিগত লঙ্ঘন নয়, বরং গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণেরই—এটাই গণতন্ত্রের মূল নিশ্চয়তা।





















