Dhaka ০৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 161

কোনো ব্যক্তির প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না— মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর এই বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি রিট খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া সম্পাদিত কোনো দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হবে না এবং তা নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আদালত উল্লেখ করেন, পারিবারিক জীবন রক্ষা ও স্ত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করার বৃহত্তর স্বার্থে আইনটির এই বিধান সংবিধানসম্মত।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বর্তমান বিয়ে বহাল থাকাকালে নতুন করে বিয়ে করতে চাইলে নির্ধারিত ফিসসহ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতির বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সালিশি কাউন্সিল গঠন করে প্রস্তাবিত বিয়েটি প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত কি না, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি রুল জারি করলেও শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট তা খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিধান বহাল থাকল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

কোনো ব্যক্তির প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না— মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর এই বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত একটি রিট খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া সম্পাদিত কোনো দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হবে না এবং তা নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আদালত উল্লেখ করেন, পারিবারিক জীবন রক্ষা ও স্ত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করার বৃহত্তর স্বার্থে আইনটির এই বিধান সংবিধানসম্মত।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বর্তমান বিয়ে বহাল থাকাকালে নতুন করে বিয়ে করতে চাইলে নির্ধারিত ফিসসহ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতির বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সালিশি কাউন্সিল গঠন করে প্রস্তাবিত বিয়েটি প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত কি না, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি রুল জারি করলেও শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট তা খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত বিধান বহাল থাকল।