Dhaka ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নওগাঁ সীমান্তে ১৯ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার বাড়িভাড়া আকাশছোঁয়া, বিক্ষোভে উত্তাল স্পেনের রাজপথ

আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলো চাকসু প্রতিনিধিরা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 172

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত জুলাই গণহত্যা এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ ছাত্র সংসদের হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার দুপুরের দিকে তাকে ধরে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সমর্থন, ছাত্রলীগের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় রোমান শুভর বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বিথ ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বে ছিলেন। তার ক্যাম্পাসে উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসুর প্রতিনিধিরা আইন অনুষদে যান। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনুষদের পেছনের পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা দৌড়ে তাকে আটক করেন।

চাকসুর আইনবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে রোমান শুভর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করেন এবং ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁর শিক্ষা জীবন তছনছ করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর গত ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সাত দফা অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি বলেন, ওই শিক্ষক যা করেছেন, সেগুলো ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, আমি কোনো মৌন মিছিলে অংশ নিইনি। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন আইনের শিক্ষক। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও অংশ নিইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে বর্তমানে প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সম্পৃক্ততাসহ তিনটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে তিনি যদি আগেই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রশাসনকে জানাতেন, তাহলে তার মর্যাদা ক্ষুন্ণ হওয়ার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলো চাকসু প্রতিনিধিরা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত জুলাই গণহত্যা এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ ছাত্র সংসদের হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার দুপুরের দিকে তাকে ধরে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সমর্থন, ছাত্রলীগের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় রোমান শুভর বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বিথ ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বে ছিলেন। তার ক্যাম্পাসে উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসুর প্রতিনিধিরা আইন অনুষদে যান। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনুষদের পেছনের পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা দৌড়ে তাকে আটক করেন।

চাকসুর আইনবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে রোমান শুভর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা করেন এবং ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁর শিক্ষা জীবন তছনছ করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর গত ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সাত দফা অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি বলেন, ওই শিক্ষক যা করেছেন, সেগুলো ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, আমি কোনো মৌন মিছিলে অংশ নিইনি। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন আইনের শিক্ষক। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও অংশ নিইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে বর্তমানে প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সম্পৃক্ততাসহ তিনটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে তিনি যদি আগেই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রশাসনকে জানাতেন, তাহলে তার মর্যাদা ক্ষুন্ণ হওয়ার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন