জন্মহার বাড়াতে চীনের অদ্ভুত কৌশল, চলছে বিতর্ক-হাসাহাসি
- প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 185
ক্রমহ্রাসমান জন্মহার এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবার অভিনব এবং বিতর্কিত পথ বেছে নিয়েছে চীন সরকার। দেশটির নতুন কর নীতি অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দম্পতিদের সন্তান লালন-পালনে উৎসাহিত করতে শিশুসেবা বা চাইল্ডকেয়ার সংক্রান্ত খরচ করমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চীনের নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে তরুণ প্রজন্ম সন্তান গ্রহণের দিকে বেশি আগ্রহী হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের এই নতুন কর সংস্কারের ফলে ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু কর ছাড় বাতিল করা হয়েছে। সেই সময় চীনে কঠোর এক সন্তান নীতি কার্যকর ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো হওয়ায় সরকার এখন বিবাহ-সম্পর্কিত পরিষেবা এবং বয়স্কদের সেবার ওপর থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ ছাড়া পিতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো এবং সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে চীনে মাত্র ৯৫ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়েছে। এটি গত এক দশকের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। টানা তিন বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা সংকুচিত হওয়া বেইজিংয়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
তবে কনডম, গর্ভনিরোধক বড়ি বা এই জাতীয় সরঞ্জামের ওপর কর বসানোর বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই কৌতুক করে বলছেন, একটি কনডমের দাম আর একটি সন্তান বড় করার খরচের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সমালোচকদের মতে, কনডমের দাম সামান্য বাড়লেই মানুষ সন্তান নিতে শুরু করবে এমনটা ভাবা অবাস্তব। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দামি হয়ে পড়লে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
চীনে সন্তান মানুষ করার খরচ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। বিশেষ করে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, স্কুল ফি এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য সন্তান লালন-পালনের চ্যালেঞ্জ তরুণ দম্পতিদের পিছিয়ে দিচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং আবাসন খাতের সংকট, যা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে টান ফেলেছে।
হেনান প্রদেশের ৩৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লুয়োর মতো অনেক অভিভাবকই মনে করেন, এটি কেবল অর্থের বিষয় নয় বরং সামাজিক চাপের বিষয়। তার মতে, আধুনিক প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা একে অপরের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেয়ে ডিজিটাল জগতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে এবং মানুষের সাথে মেলামেশাকে তারা বাড়তি বোঝা মনে করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চীনের এই নীতি হিতে বিপরীত হতে পারে। জাপানের টোকিও থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত পুরো এশিয়াজুড়ে জন্মহার কমলেও চীনের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে সরকারের অতি-তৎপরতা বা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। সম্প্রতি দেশটির কিছু প্রদেশে নারীদের ঋতুচক্র বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের ফোন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। শেষ পর্যন্ত করের হেরফের করে বা কনডোমকে ব্যয়বহুল করে চীন তার জনতাত্ত্বিক সংকট কাটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি




















