Dhaka ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দলবদ্ধভাবে আকাশে ওড়ার দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন শিল্পী তুলিতে ছবি এঁকেছেন

অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর বাণিবহের শিবরামপুর

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 136

রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিভৃতপল্লি বাণিবহ ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রাম এখন অতিথি পাখির জন্য ক্রমশঃ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছে এসব পাখি দেখার জন্য। পাখির কলরবে গ্রামটি  মুখর হয়ে থাকে সব সময়। শীত শুরুর আগেভাগেই পাখিগুলো চলে এসেছে এখানে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক বলছেন, শীতপ্রধান দেশ থেকে খাবারের সন্ধানে পরিযায়ী পাখিরা উড়ে আসে আমাদের দেশে।

রাজবাড়ী থেকে সাত কিলোমিটার দূরে শ্যামল ছায়া ঘেরা এক গ্রাম শিবরামপুর। এই গ্রামের করবাড়ির পুকুরের চারপাশ ঘেরা বিভিন্ন গাছ। এই গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। সাদা রংয়ের পাখিগুলো কিচিরমিচর করে আকাশে ওড়ে। কখনও গাছের ডালে বসে। গাছের ডালে শত শত পাখির বাসা। এ এক মনোরম দৃশ্য। পাখি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে মানুষ। কেউ ছবি তুলছে, কেউ পাখির কিচিরমিচির শব্দ রেকর্ড করছে। পাখিদের এই আগমনে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্রে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো পাখির কলকাকলি ও কিচিরমিচির শব্দে এলাকা মুখরিত থাকে। গাছের ডালে বসে থাকার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনেক সময় পাখিদের দলবদ্ধভাবে আকাশে ওড়ার দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন কোনো শিল্পী তার তুলিতে ছবি এঁকেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। এসময় কথা হয় এলাকার বয়োবৃদ্ধ আব্দুল হাকিমের সঙ্গে। তিনি জানান, আগে মাঝে মধ্যে আসত। গত দুই বছর ধরে বেশি আসছে। সারা গ্রামে পাখির কলরব ধ্বনিতে মুখর থাকে। শিশু-কিশোররা খুব খুশী পাখি দেখে।

পাখিরা যেখানে বাসা বেঁধেছে তার সাথেই বাড়ি আকাশ করের। তিনি জানান, গত আট মাস ধরে অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এখন প্রায় ২০ হাজার পাখি আছে এখানে। এরা দিনের বেলায় খাবারের সন্ধানে বের হয়। বিকেলের মধ্যে ফিরে আসে। সারাক্ষণ কিচির মিচির শব্দ এত ভালো লাগে বোঝানোর নয়। এলাকাবাসী পাখিদের নিরাপত্তায় করণীয় সবকিছু করছে। এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে দেখতে। এটা আমাদের এলাকার গর্ব হয়ে উঠছে।

পাখি দেখতে আসা রবিউল রবি জানান, পাখিগুলো দেখে খুবই ভালো লাগছে। পাখির কিচিরমিচর শব্দে তিনি মোহিত হয়ে গেছেন। পাখিগুলো যেন নিজের মত করে থাকতে পারে। কেউ যেন বিরক্ত না করে। এলাকাবাসী যেন তাদের দেখেশুনে রাখে। ওরা আমাদের অতিথি। সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, পরিযায়ী পাখি শীত প্রধান দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে আসে। পাখিদের খাবারের সমস্যা, ডিম পাড়ার সমস্যা ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে এদেশে আসে বংশবিস্তারের জন্য। বংশ বিস্তার হয়ে গেলে তারা উপযুক্ত আবহাওয়ায় ফিরে যায়। বালিহাসসহ নানান ধরনের পাখি আসে। এরা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মাইগ্রেট করে। এরা শামুক, ছোট মাছ, পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। এরা মলত্যাগ করলেও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

রাজবাড়ী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বিকেলে তাদের একজন স্টাফ সেখানে যাচ্ছেন। তারা একটি সাইনবোর্ড দেবেন। তিনি নিজেও সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। এলাকার লোকদের সচেতন করছেন। আগে পাখি শিকারের যে প্রবণতা ছিল, সেটি বন্ধ হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দলবদ্ধভাবে আকাশে ওড়ার দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন শিল্পী তুলিতে ছবি এঁকেছেন

অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর বাণিবহের শিবরামপুর

প্রকাশের সময় : ০৫:২২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিভৃতপল্লি বাণিবহ ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রাম এখন অতিথি পাখির জন্য ক্রমশঃ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছে এসব পাখি দেখার জন্য। পাখির কলরবে গ্রামটি  মুখর হয়ে থাকে সব সময়। শীত শুরুর আগেভাগেই পাখিগুলো চলে এসেছে এখানে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক বলছেন, শীতপ্রধান দেশ থেকে খাবারের সন্ধানে পরিযায়ী পাখিরা উড়ে আসে আমাদের দেশে।

রাজবাড়ী থেকে সাত কিলোমিটার দূরে শ্যামল ছায়া ঘেরা এক গ্রাম শিবরামপুর। এই গ্রামের করবাড়ির পুকুরের চারপাশ ঘেরা বিভিন্ন গাছ। এই গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। সাদা রংয়ের পাখিগুলো কিচিরমিচর করে আকাশে ওড়ে। কখনও গাছের ডালে বসে। গাছের ডালে শত শত পাখির বাসা। এ এক মনোরম দৃশ্য। পাখি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে মানুষ। কেউ ছবি তুলছে, কেউ পাখির কিচিরমিচির শব্দ রেকর্ড করছে। পাখিদের এই আগমনে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্রে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো পাখির কলকাকলি ও কিচিরমিচির শব্দে এলাকা মুখরিত থাকে। গাছের ডালে বসে থাকার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনেক সময় পাখিদের দলবদ্ধভাবে আকাশে ওড়ার দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন কোনো শিল্পী তার তুলিতে ছবি এঁকেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। এসময় কথা হয় এলাকার বয়োবৃদ্ধ আব্দুল হাকিমের সঙ্গে। তিনি জানান, আগে মাঝে মধ্যে আসত। গত দুই বছর ধরে বেশি আসছে। সারা গ্রামে পাখির কলরব ধ্বনিতে মুখর থাকে। শিশু-কিশোররা খুব খুশী পাখি দেখে।

পাখিরা যেখানে বাসা বেঁধেছে তার সাথেই বাড়ি আকাশ করের। তিনি জানান, গত আট মাস ধরে অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এখন প্রায় ২০ হাজার পাখি আছে এখানে। এরা দিনের বেলায় খাবারের সন্ধানে বের হয়। বিকেলের মধ্যে ফিরে আসে। সারাক্ষণ কিচির মিচির শব্দ এত ভালো লাগে বোঝানোর নয়। এলাকাবাসী পাখিদের নিরাপত্তায় করণীয় সবকিছু করছে। এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে দেখতে। এটা আমাদের এলাকার গর্ব হয়ে উঠছে।

পাখি দেখতে আসা রবিউল রবি জানান, পাখিগুলো দেখে খুবই ভালো লাগছে। পাখির কিচিরমিচর শব্দে তিনি মোহিত হয়ে গেছেন। পাখিগুলো যেন নিজের মত করে থাকতে পারে। কেউ যেন বিরক্ত না করে। এলাকাবাসী যেন তাদের দেখেশুনে রাখে। ওরা আমাদের অতিথি। সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, পরিযায়ী পাখি শীত প্রধান দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে আসে। পাখিদের খাবারের সমস্যা, ডিম পাড়ার সমস্যা ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে এদেশে আসে বংশবিস্তারের জন্য। বংশ বিস্তার হয়ে গেলে তারা উপযুক্ত আবহাওয়ায় ফিরে যায়। বালিহাসসহ নানান ধরনের পাখি আসে। এরা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মাইগ্রেট করে। এরা শামুক, ছোট মাছ, পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। এরা মলত্যাগ করলেও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

রাজবাড়ী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বিকেলে তাদের একজন স্টাফ সেখানে যাচ্ছেন। তারা একটি সাইনবোর্ড দেবেন। তিনি নিজেও সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। এলাকার লোকদের সচেতন করছেন। আগে পাখি শিকারের যে প্রবণতা ছিল, সেটি বন্ধ হয়েছে।