Dhaka ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন মার্ভেল তারকা সিমু লিউ পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি মুনিরা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সরাতে গণভোট লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক মধুখালীর মনিরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কোটালীপাড়ায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের অর্ধবার্ষিক সভা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 87

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের তিনটি শ্রেণির (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম) পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে সরকার এবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা যায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানরাও বই ছাপার জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। এ কারণে দেশের ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দেশি কাগজশিল্প ও ছাপাখানার মালিক-শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, দেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে গেলে দেশের ছাপাখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থান কমবে এবং শিল্পে ধস নামবে। পাশাপাশি বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে সরকার তাদের ভ্যাট-ট্যাক্স বহন করবে, কিন্তু দেশি প্রতিষ্ঠান সেই খরচ নিজেই বহন করে থাকে। ফলে দেশি ছাপাখানাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কম দামে বই ছাপতে পারবে না।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি মঙ্গলবার বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ৯ কোটি প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপার প্রস্তাব অনুমোদন করলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি বইয়ের প্রস্তাব স্থগিত রাখে। তবে আন্তর্জাতিক দরপত্রের জন্য সরকার বিধিতে সংশোধন এনেছে, যা দ্রুত ছাপার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্র নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই।

মুদ্রণ শিল্প সংশ্লিষ্টরা সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দেশের হাজার হাজার শ্রমিক, কাগজ, কালি, মেশিনারি ও প্যাকেজিং খাতে নিয়োজিত মানুষ এই সিদ্ধান্তে বেকার হয়ে পড়বেন এবং অনেক ছাপাখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের তিনটি শ্রেণির (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম) পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে সরকার এবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা যায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানরাও বই ছাপার জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। এ কারণে দেশের ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দেশি কাগজশিল্প ও ছাপাখানার মালিক-শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, দেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে গেলে দেশের ছাপাখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থান কমবে এবং শিল্পে ধস নামবে। পাশাপাশি বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে সরকার তাদের ভ্যাট-ট্যাক্স বহন করবে, কিন্তু দেশি প্রতিষ্ঠান সেই খরচ নিজেই বহন করে থাকে। ফলে দেশি ছাপাখানাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কম দামে বই ছাপতে পারবে না।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি মঙ্গলবার বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ৯ কোটি প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপার প্রস্তাব অনুমোদন করলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি বইয়ের প্রস্তাব স্থগিত রাখে। তবে আন্তর্জাতিক দরপত্রের জন্য সরকার বিধিতে সংশোধন এনেছে, যা দ্রুত ছাপার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্র নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই।

মুদ্রণ শিল্প সংশ্লিষ্টরা সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দেশের হাজার হাজার শ্রমিক, কাগজ, কালি, মেশিনারি ও প্যাকেজিং খাতে নিয়োজিত মানুষ এই সিদ্ধান্তে বেকার হয়ে পড়বেন এবং অনেক ছাপাখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে