শেরপুরের গারো পাহাড়ে আগাম শিম চাষে কৃষক কাদেরের সাফল্য
- প্রকাশের সময় : ০২:৩২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 340
ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় উচ্চ ফলনশীল ও গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য উপযুক্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি শিম-৭জাতের শিম চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষক আব্দুল কাদির। এই শিম সারা বছর ধরেই চাষ করা যায়। এ বছর আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় শিমের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে আগাম শিমের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও দাম চড়া থাকায় ভীষণ খুশি কৃষক আব্দুল কাদির।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় বিভিন্ন সবজিতে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। আব্দুল কাদিরের শিম বাগানের জমির আনাচে-কানাচে শিমের সাদা ফুলে ভরে গেছে। থোকায় থোকায় পরিপুষ্ট শিমে ভরে গেছে গাছ। কৃষক আব্দুল কাদির জমিতে চাষ করা শিম বাগান থেকে শিম তুলছেন। সঙ্গে আরেক নারী শ্রমিক শিম গাছের পরিচর্যা করছেন। সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, কাদিরের চাষ করা শিমের বাগানে প্রচুর ফুল ফুটেছে। অল্পসময়ের মধ্যে এ জাতের শিম গাছে ফলও এসেছে অনেক। আমিও এ জাতের শিম চাষের পরিকল্পনা করছি।
জানা যায়, দীর্ঘদিন গাজীপুরের পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এ কৃষক। পোশাক কারখানায় উপার্জিত অর্থে সংসার না চলায় বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এর পর থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে শাক-সবজি চাষাবাদ শুরু করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসের শুরুতে ২০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের শিম কেরালা-১ চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি।
কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, ২০২২ সালে ইউটিউবে দেখে কেরালা-১ জাতের শিমের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম। এ বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ শেরপুর থেকে উচ্চ ফলনশীল ও গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য উপযুক্ত বারি শিম-৭ জাতের শিমের ২৫০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করি। প্রথম বার হওয়ায় মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে চলতি বছরের মে মাসে নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের শিমের বীজ রোপণ করি। তিনি আর বলেন, শিম চাষে শ্রমিক খরচ, সুতা, কীটনাশক, পানি, সারসহ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা তাকে খরচ করতে হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য রাত দিন গাছের যতœ নিয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাগানজুড়ে শিম গাছে ফুল এসেছে। এসেছে কাঙ্খিত ফসল। এরই মধ্যে কয়েক দফায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, গত তিনদিনে ১৫০ টাকা কেজি দরে ১ মণ ২০ কেজি শিম বিক্রি করেছেন। এমন অবস্থা চলমান থাকলে আর আবহাওয়া ভালো থাকলে বাগান থেকে আরো লাভ হবে বলে আশা করি। আমাকে দেখে এলাকায় এখন অনেকেই শিম চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এটা দেখে খুব ভালো লাগে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর। তাই এখানকার কৃষকদের সবজি বাগান গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এখন ওইসব এলাকায় ব্যাপক সবজি চাষ হচ্ছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন কৃষক আগাম জাতের শিম চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারে চড়া মূল্য পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি। তাদের দেখা-দেখি অন্যরাও সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

















