Dhaka ০১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেফতার ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

নিউ মার্কেট থেকে দেওয়া হতো অস্ত্র ভাড়া ও ফ্রি হোম ডেলিভারি : সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 287

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সামুরাই চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো ছুরি। যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া হতো। ফ্রি হোম ডেলিভারিও দেওয়া হতো।
শনিবার (৯ আগস্ট) দিনভর অভিযান পরিচালনা করে তিনটি দোকান থেকে ৯ জনকে আটক করে সেনাবাহিনী। তারা অবৈধ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ আর্মি ক্যাম্পে সংবাদ সম্মলেন সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। গ্রেপ্তার অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ‘সামুরাই’ ছুরি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় আসে। পরে গোয়েন্দা তথ্য এবং গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সন্ত্রাসীর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এসব অস্ত্র নিউ মার্কেট এলাকা থেকে ভাড়া ও বিক্রি করা হতো এবং গ্রাহকের কাছে ফ্রি হোম ডেলিভারি দেওয়া হতো।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, দুই দিনের ধারাবাহিক অভিযানে নিউ মার্কেটের একাধিক দোকান ও গুদাম থেকে ১১০০ এর বেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র কোনো গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হয় না। বরং গত কয়েক মাসে একাধিক হত্যা, আহত, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হতো। আমরা যখন কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করি তাদের কাছ থেকে এই ধরনেরই সামুরাই পাওয়া যায়। তারা দোকানের সামনে অন্য জিনিসপত্র ওপেনে বিক্রি করলেও এসব সামুরাই গোপনে গোডাউনে রেখে দেয় এবং সেখান থেকে তারা কুরিয়ারের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি দিত। কিছু কিছু জিনিস আছে এগুলো হাউজহোল্ডে ব্যবহৃত হয়। এগুলো ওপেনলি ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু এই সামুরাই তারা গোপনে বিক্রি করে এবং সেগুলো তারা ফ্রি হোম ডেলিভারি দেয়। এসব হোম ডেলিভারি তারা কিশোর গ্যাংদের কাছেই দিয়ে থাকে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৩০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও প্রায় ৮২১৫ রাউন্ড এমনেশান উদ্ধার করতে পেরেছি সেগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিয়েছি। আজকের অভিযান ছাড়া ৫৩৮টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে বিভিন্ন থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের কাছে আদাবর শেরে বাংলা মোহাম্মদপুর থেকে ৮১৮ জনকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করেছি।
তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অপরাধীদের কোনো যোগসাজশ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। সেনাবাহিনী ব্যবসায়ী সমাজকে সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ধারালো অস্ত্র বিক্রি না করতে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নিউ মার্কেট থেকে দেওয়া হতো অস্ত্র ভাড়া ও ফ্রি হোম ডেলিভারি : সেনাবাহিনী

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সামুরাই চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো ছুরি। যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া হতো। ফ্রি হোম ডেলিভারিও দেওয়া হতো।
শনিবার (৯ আগস্ট) দিনভর অভিযান পরিচালনা করে তিনটি দোকান থেকে ৯ জনকে আটক করে সেনাবাহিনী। তারা অবৈধ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ আর্মি ক্যাম্পে সংবাদ সম্মলেন সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। গ্রেপ্তার অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ‘সামুরাই’ ছুরি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় আসে। পরে গোয়েন্দা তথ্য এবং গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সন্ত্রাসীর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এসব অস্ত্র নিউ মার্কেট এলাকা থেকে ভাড়া ও বিক্রি করা হতো এবং গ্রাহকের কাছে ফ্রি হোম ডেলিভারি দেওয়া হতো।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, দুই দিনের ধারাবাহিক অভিযানে নিউ মার্কেটের একাধিক দোকান ও গুদাম থেকে ১১০০ এর বেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র কোনো গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হয় না। বরং গত কয়েক মাসে একাধিক হত্যা, আহত, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হতো। আমরা যখন কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করি তাদের কাছ থেকে এই ধরনেরই সামুরাই পাওয়া যায়। তারা দোকানের সামনে অন্য জিনিসপত্র ওপেনে বিক্রি করলেও এসব সামুরাই গোপনে গোডাউনে রেখে দেয় এবং সেখান থেকে তারা কুরিয়ারের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি দিত। কিছু কিছু জিনিস আছে এগুলো হাউজহোল্ডে ব্যবহৃত হয়। এগুলো ওপেনলি ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু এই সামুরাই তারা গোপনে বিক্রি করে এবং সেগুলো তারা ফ্রি হোম ডেলিভারি দেয়। এসব হোম ডেলিভারি তারা কিশোর গ্যাংদের কাছেই দিয়ে থাকে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৩০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও প্রায় ৮২১৫ রাউন্ড এমনেশান উদ্ধার করতে পেরেছি সেগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিয়েছি। আজকের অভিযান ছাড়া ৫৩৮টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে বিভিন্ন থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের কাছে আদাবর শেরে বাংলা মোহাম্মদপুর থেকে ৮১৮ জনকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করেছি।
তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অপরাধীদের কোনো যোগসাজশ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। সেনাবাহিনী ব্যবসায়ী সমাজকে সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ধারালো অস্ত্র বিক্রি না করতে।