Dhaka ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেফতার ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নোয়াবের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 242

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি এ কে আজাদ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নোয়াবের জন্য উদ্বেগজনক। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা হতাশাজনক।

এ কে আজাদ বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা দেশবাসী করেছিল, সেখানে তথ্য প্রকাশ, মত প্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে বলে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু গত এক বছরে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘মব’ তৈরি করে উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ ও দাবি আদায়ের চেষ্টা হয়েছে। কর্মীদের কোনো দেনা-পাওনার বিষয় থাকলে শ্রম আদালতের মাধ্যমে, আর সংবাদ বা কনটেন্ট-সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে পত্রিকার কার্যালয়ে ও পোর্টালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।”

টিআইবির প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে নোয়াব সভাপতি জানান, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি আটটি সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ কে আজাদ বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কোনো সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে ‘মব’ সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত আরও মজবুত হবে।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নোয়াবের উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি এ কে আজাদ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নোয়াবের জন্য উদ্বেগজনক। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা হতাশাজনক।

এ কে আজাদ বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা দেশবাসী করেছিল, সেখানে তথ্য প্রকাশ, মত প্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে বলে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু গত এক বছরে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘মব’ তৈরি করে উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ ও দাবি আদায়ের চেষ্টা হয়েছে। কর্মীদের কোনো দেনা-পাওনার বিষয় থাকলে শ্রম আদালতের মাধ্যমে, আর সংবাদ বা কনটেন্ট-সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে পত্রিকার কার্যালয়ে ও পোর্টালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।”

টিআইবির প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে নোয়াব সভাপতি জানান, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে, পাশাপাশি আটটি সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ কে আজাদ বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কোনো সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে ‘মব’ সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত আরও মজবুত হবে।”