Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের কোনোমতে একশ পার সরকারের ভেতরে যত ঢুকছি, ততই আতঙ্কিত হচ্ছি: মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলার জট খুলছে : আইনমন্ত্রী ফারুকী আমাদের কিছু শিল্পীর জীবন শেষ করে দিয়েছেন : অরুণা বিশ্বাস নওগাঁর মহাদেবপুরে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির নতুন ভবনের উদ্বোধন গোখরোর ছোবলে যুবকের মৃত্যু, কেরামতির ভিডিও ভাইরাল ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৩ উইকেট হারানোর পর বৃষ্টিতে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ

সাপুড়ের প্রাণ নেওয়া সাপটিকে চিবিয়ে খেল আরেক সাপুড়ে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / 89

সাপ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলে প্রাণ গেল এক সাপুড়ের। এরপর সাপুড়ের প্রাণনাশী সেই সাপটিকে কাচা চিবিয়ে খেয়ে নিলেন আরেক সাপুড়ে। এরকম চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নে।

বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ডাক্তার পাড়ার সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন পাশের ইউনিয়ন কালিগঞ্জের কাপালিপাড়ার ইমরান আলীর বাড়িতে সাপ ধরতে যান।

ইমরান আলীর বাড়ির পাকের ঘরে একটি ইদুরের গর্তে বাসা বাধে একটি কিং কোবরা সাপ। সঙ্গে ছিল ১৫-১৬টি সাপের বাচ্চা। খাল খুড়ে সাপের বাচ্চাগুলো ধরার পর বড় সাপটি ধরে ফেলেন সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন। সাপটি বস্তায় ঢোকানের আগেই হাতে ছোবল দেয় সেটি।

প্রথম দিকে সাপের বিষে কিছু না হলেও বাড়িতে এসে বিষক্রিয়ায় নিস্তেজ হতে থাকেন তিনি। দ্রুত ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

লাশ বাড়িতে আনার পর একে একে আসতে থাকে কয়েকজন ওঝা ও সাপুড়ে। তারাও এসে বলেন রোগী মারা গেছেন। মোজাহার নামক একজন ওঝা বড় সাপসহ বাচ্চাগুলো নিয়ে নেন। পরে গাবতলা বাজারে এসে বড় সাপটিকে কাচাই চিবিয়ে খান তিনি।

এসময় গাবতলা বাজারে তার সাপ খাওয়ার দৃশ্য দেখতে প্রচুর লোক ভীড় জমান। মোজাহারের বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বলদিয়া বাজার এলাকায়। এলাকায় মোজাহার সাপ খাওয়া মোজাহার নামে পরিচিত। তিনিও সাপ ধরেন ও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

মোজাহার বলেন, বয়েজ উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে আমি খবর পাই এবং সাপের পরিচয় পাওয়ার পর বলেছি তিনি বাঁচবেন না। হাসপাতাল থেকে তাকে ফেরত আনার পর আমাকে ফোনে ডেকে আনে বয়েজ উদ্দিনের স্বজন।

এখানে এসে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়ে দিয়েছি। পরে বয়েজ উদ্দিনের ধরা সাপের বচ্চাসহ বড় সাপটি তারা আমাকে দেয়।

এগুলো নিয়ে এসে এই বাজারে বড় সাপটি মেরে রক্ত মাংস খেয়েছি। আর ছোট বাচ্চাগুলো ছেড়ে দেব। কাচা সাপ খাওয়া তার পুরোনো অভ্যাস। এদিকে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করার পরও বয়েজ উদ্দিন বেঁচে আছে সন্দেহে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝাড়ফুক চলছে বলে জানা যায়।

ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস.এম.আবু সায়েম বলেন, সাপে কাটলে ঝাড়ফুকে কোনো কাজ হওয়ার কথা না। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনতে হবে। আমাদের কাছে এন্টি ভেনম মজুত আছে। লোকজনকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রপ বেশি। সাপে কাটলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনতে হবে।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সাপুড়ের প্রাণ নেওয়া সাপটিকে চিবিয়ে খেল আরেক সাপুড়ে

প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

সাপ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলে প্রাণ গেল এক সাপুড়ের। এরপর সাপুড়ের প্রাণনাশী সেই সাপটিকে কাচা চিবিয়ে খেয়ে নিলেন আরেক সাপুড়ে। এরকম চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নে।

বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ডাক্তার পাড়ার সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন পাশের ইউনিয়ন কালিগঞ্জের কাপালিপাড়ার ইমরান আলীর বাড়িতে সাপ ধরতে যান।

ইমরান আলীর বাড়ির পাকের ঘরে একটি ইদুরের গর্তে বাসা বাধে একটি কিং কোবরা সাপ। সঙ্গে ছিল ১৫-১৬টি সাপের বাচ্চা। খাল খুড়ে সাপের বাচ্চাগুলো ধরার পর বড় সাপটি ধরে ফেলেন সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন। সাপটি বস্তায় ঢোকানের আগেই হাতে ছোবল দেয় সেটি।

প্রথম দিকে সাপের বিষে কিছু না হলেও বাড়িতে এসে বিষক্রিয়ায় নিস্তেজ হতে থাকেন তিনি। দ্রুত ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

লাশ বাড়িতে আনার পর একে একে আসতে থাকে কয়েকজন ওঝা ও সাপুড়ে। তারাও এসে বলেন রোগী মারা গেছেন। মোজাহার নামক একজন ওঝা বড় সাপসহ বাচ্চাগুলো নিয়ে নেন। পরে গাবতলা বাজারে এসে বড় সাপটিকে কাচাই চিবিয়ে খান তিনি।

এসময় গাবতলা বাজারে তার সাপ খাওয়ার দৃশ্য দেখতে প্রচুর লোক ভীড় জমান। মোজাহারের বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বলদিয়া বাজার এলাকায়। এলাকায় মোজাহার সাপ খাওয়া মোজাহার নামে পরিচিত। তিনিও সাপ ধরেন ও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

মোজাহার বলেন, বয়েজ উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে আমি খবর পাই এবং সাপের পরিচয় পাওয়ার পর বলেছি তিনি বাঁচবেন না। হাসপাতাল থেকে তাকে ফেরত আনার পর আমাকে ফোনে ডেকে আনে বয়েজ উদ্দিনের স্বজন।

এখানে এসে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়ে দিয়েছি। পরে বয়েজ উদ্দিনের ধরা সাপের বচ্চাসহ বড় সাপটি তারা আমাকে দেয়।

এগুলো নিয়ে এসে এই বাজারে বড় সাপটি মেরে রক্ত মাংস খেয়েছি। আর ছোট বাচ্চাগুলো ছেড়ে দেব। কাচা সাপ খাওয়া তার পুরোনো অভ্যাস। এদিকে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করার পরও বয়েজ উদ্দিন বেঁচে আছে সন্দেহে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝাড়ফুক চলছে বলে জানা যায়।

ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস.এম.আবু সায়েম বলেন, সাপে কাটলে ঝাড়ফুকে কোনো কাজ হওয়ার কথা না। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনতে হবে। আমাদের কাছে এন্টি ভেনম মজুত আছে। লোকজনকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রপ বেশি। সাপে কাটলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনতে হবে।