Dhaka ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 75

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৩২ হাজার শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই হবে মুখ্য বিষয়। যেসব শিক্ষক অভিজ্ঞ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের পাশাপাশি তরুণ, মেধাবী শিক্ষকদেরও সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি নির্দেশ দেন, দ্রুত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মূল্যায়নে দেখা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দক্ষ, সচেতন ও সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, সেখানে শিক্ষার মান তুলনামূলক ভালো। তাই দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকে উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় জানান, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন হয়নি। এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন করে র‍্যাংকিং করা হচ্ছে এবং পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা নিয়েও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “শহরকেন্দ্রিক বদলির জন্য শিক্ষকরা সুপারিশ ও তদবিরে ছুটে বেড়ান। এ অনিয়ম ঠেকাতে বদলির জন্য নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যার বাইরে কেউ বদলি হতে পারবে না।”

নারীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “স্কুল ভবন নির্মাণের সময় অন্তত একজন নারী স্থপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল হয়।”

এ ছাড়া সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৩২ হাজার শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই হবে মুখ্য বিষয়। যেসব শিক্ষক অভিজ্ঞ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের পাশাপাশি তরুণ, মেধাবী শিক্ষকদেরও সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি নির্দেশ দেন, দ্রুত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মূল্যায়নে দেখা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দক্ষ, সচেতন ও সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, সেখানে শিক্ষার মান তুলনামূলক ভালো। তাই দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকে উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় জানান, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন হয়নি। এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন করে র‍্যাংকিং করা হচ্ছে এবং পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা নিয়েও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “শহরকেন্দ্রিক বদলির জন্য শিক্ষকরা সুপারিশ ও তদবিরে ছুটে বেড়ান। এ অনিয়ম ঠেকাতে বদলির জন্য নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যার বাইরে কেউ বদলি হতে পারবে না।”

নারীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “স্কুল ভবন নির্মাণের সময় অন্তত একজন নারী স্থপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল হয়।”

এ ছাড়া সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।