Dhaka ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

সুদে কারবারীদের ‘বার্ষিক রিকভারি’

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মে ২০২১
  • / 654

জনতার আদালত অনলাইন ॥ চাল,তৈল, মুদিদোকানী, চা দোকানী, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী, স্যালো, ট্রাক্টর মালিকসহ নানা ধরণের পেশার মানুষের হালখাতা হলেও রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে প্রতি বছরই বসে সুদেকারবারীদের হালখাতার আয়োজন। অন্যান্যে ব্যবসার মতোই সুদগ্রহণ কারীদের বাড়ীতে চিঠি প্রদান করে বাৎসরিক রিকভারী করা হয় প্রকাশ্যে ধুমধামের মধ্যে দিয়েই। গোপনে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও তাদের আধিপত্য ওপেন সিক্রেট।

রবিবার ( ৯ মে) উপজেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল বাজার আশার আলো সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এ বার্ষিক রিকভারী ( হালখাতার আয়োজন করেছে।

তাদের বিতরণকৃত একটি চিঠি আমাদের হাতে এসেছে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, আশার আলো সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিঃ, স্থাপিত-২০১৯, ডাকঘর: জঙ্গল বাজার, উপজেলা: বালিয়াকান্দি, জেলা: রাজবাড়ী। জনাব/ মহাশয়, এইমর্মে জানানো যাইতেছেযে, আগামী ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ বাংলা, ৯ মে ২০২১ ইং, রোজ রবিবার আশার আলো সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লি: এর বার্ষিক রিকভারী। তাই আপনি আপনার মুনাফাসহ+ আসল টাকা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবেন। আপনার উপস্থিতি ও সহানুভুতি একান্ত ভাবে কামনা করি। ধন্যবাদান্তে সভাপতি। আমাদের কাছে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, লোন ২০০০০+সুদ=৬২০০।

সুদে টাকা নেওয়া কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এ হালখাতাটি জঙ্গল বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুজিত বিশ্বাসের ঘরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সুজিত বিশ^াসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ সমিতির একজন সদস্য মাত্র। সমিতির সভাপতি শুকদেব। আর এ সমিতি গত বছর ভেঙে গেছে। পরে তিনি নিজেই শুকদেবের সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেন।

শুকদেব বলেন, সমিতি এক বছর আগেই ভেঙে গেছে। মাঝখানে থানা থেকে বলে গেছে আপনারা টাকার জন্য কাউকে চাপ দেবেন না। যাদের ঋণ বাকী ছিল তাদেরকে টাকা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে সুযোগ সুবিধা মত টাকা জমা দিতে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমার জানামতে এ নামে কোন সমিতি নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি এখনই জানতে পেরেছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে এ হালখাতাটি বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বন্ধ না হলে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সুদে কারবারীদের ‘বার্ষিক রিকভারি’

প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মে ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ চাল,তৈল, মুদিদোকানী, চা দোকানী, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী, স্যালো, ট্রাক্টর মালিকসহ নানা ধরণের পেশার মানুষের হালখাতা হলেও রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে প্রতি বছরই বসে সুদেকারবারীদের হালখাতার আয়োজন। অন্যান্যে ব্যবসার মতোই সুদগ্রহণ কারীদের বাড়ীতে চিঠি প্রদান করে বাৎসরিক রিকভারী করা হয় প্রকাশ্যে ধুমধামের মধ্যে দিয়েই। গোপনে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও তাদের আধিপত্য ওপেন সিক্রেট।

রবিবার ( ৯ মে) উপজেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল বাজার আশার আলো সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এ বার্ষিক রিকভারী ( হালখাতার আয়োজন করেছে।

তাদের বিতরণকৃত একটি চিঠি আমাদের হাতে এসেছে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, আশার আলো সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিঃ, স্থাপিত-২০১৯, ডাকঘর: জঙ্গল বাজার, উপজেলা: বালিয়াকান্দি, জেলা: রাজবাড়ী। জনাব/ মহাশয়, এইমর্মে জানানো যাইতেছেযে, আগামী ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ বাংলা, ৯ মে ২০২১ ইং, রোজ রবিবার আশার আলো সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লি: এর বার্ষিক রিকভারী। তাই আপনি আপনার মুনাফাসহ+ আসল টাকা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবেন। আপনার উপস্থিতি ও সহানুভুতি একান্ত ভাবে কামনা করি। ধন্যবাদান্তে সভাপতি। আমাদের কাছে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, লোন ২০০০০+সুদ=৬২০০।

সুদে টাকা নেওয়া কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এ হালখাতাটি জঙ্গল বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুজিত বিশ্বাসের ঘরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সুজিত বিশ^াসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ সমিতির একজন সদস্য মাত্র। সমিতির সভাপতি শুকদেব। আর এ সমিতি গত বছর ভেঙে গেছে। পরে তিনি নিজেই শুকদেবের সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেন।

শুকদেব বলেন, সমিতি এক বছর আগেই ভেঙে গেছে। মাঝখানে থানা থেকে বলে গেছে আপনারা টাকার জন্য কাউকে চাপ দেবেন না। যাদের ঋণ বাকী ছিল তাদেরকে টাকা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে সুযোগ সুবিধা মত টাকা জমা দিতে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমার জানামতে এ নামে কোন সমিতি নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি এখনই জানতে পেরেছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে এ হালখাতাটি বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বন্ধ না হলে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।