উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ ঝিনাইদহের ১০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক কসাইখানা!
- প্রকাশের সময় : ১১:৩১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকায় প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক কসাইখানাটি উদ্বোধনের পরদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে। কসাইদের অনাগ্রহ, অতিরিক্ত ফি এবং দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি টাকা মূল্যের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি এখন অবহেলায় পড়ে থেকে মরিচা ধরছে। কসাইখানাটি কোনো কাজে না আসলেও প্রতি মাসে পৌরসভাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল।
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান চিত্র
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (LDDP) আওতায় এই আধুনিক কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর একই বছরের ৬ আগস্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার কাছে কসাইখানাটি হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত ১৭ জুন আইনমন্ত্রী এ্যাড আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী কলার হাট সংলগ্ন ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই কসাইখানার মূল ফটকে ঝুলছে তালা।
কী আছে এই আধুনিক কসাইখানায়?
আড়াই হাজার বর্গফুটের এই কসাইখানায় গরু ও ছাগল জবাইয়ের জন্য দুটি পৃথক স্বয়ংক্রিয় স্লটার লাইন রয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
মাংস ব্যবসায়ীদের আপত্তি ও অভিযোগ
আধুনিক এই কসাইখানায় পশু জবাই করতে মাংস ব্যবসায়ীদের অনীহার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। মাংস ব্যবসায়ী মোস্তাকের দাবি, পবহাটী কলার হাট এলাকাটি শহরের মূল মাংস বাজার থেকে বেশ দূরে। ভোর ৪টার সময় পশু নিয়ে এত দূরে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। এছাড়া আধুনিক স্লটার হাউসে প্রতি গরু জবাইয়ের ফির পরিমাণও অনেক বেশি।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় মেশিনে চামড়া ছাড়ানোর সময় চামড়ার সাথে অতিরিক্ত মাংস চলে যাচ্ছে, যার ফলে তারা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন। একারণে তারা প্রথাগত বা সনাতন পদ্ধতিতেই বাজারের পাশে পশু জবাই করছেন।
পৌরসভা ও প্রশাসনের বক্তব্য
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ জানান, “মেশিনে মাংস বেশি চলে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। আধুনিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। প্রথম দিকে একটু সমস্যা মনে হলেও এটাই আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি। ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ কাটাতে দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।”
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চান জানান, আধুনিক এই মেশিন পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি করেও কোনো লাভ হয়নি। মূলত দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবেই আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, “কসাইখানাটি অত্যন্ত আধুনিক। এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। আমরা দ্রুত লোকবল তৈরির চেষ্টা করছি। ভেতরের মূল্যবান মেশিনগুলো ভালো রাখতে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতেই ন্যূনতম বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হচ্ছে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান জানান, ঝিনাইদহবাসীর জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংসের জোগান নিশ্চিত করতে এই কসাইখানাটি দ্রুত চালু করা অত্যন্ত জরুরি।
























