Dhaka ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ ঝিনাইদহের ১০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক কসাইখানা! সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু হামের উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩২০ ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী ঢাকা-নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আশাবাদী পর্যটনমন্ত্রী বিভাগীয় শহরগুলোতে সাইবার ইউনিট গঠন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যশোরে এজলাস থেকে মামলার নথি চুরির অভিযোগে শিক্ষানবিশ আইনজীবী আটক একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর

সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সরকারি-বেসরকারি তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার। প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঋণ থেকে বিভিন্ন গ্রাহকদের ঋণ দেবে, যার সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, দেড় হাজার কোটি ঋণের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মাইক্রো-স্মল-মিডিয়াম (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হবে। অবশিষ্ট ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।

সরকারি পরিপত্রে এই বিশেষ তহবিল গঠন ও ঋণ প্রদানের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ ও লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমাত্রার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বেড়েছে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৫-২০৩০) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যে পৌছতে এ উদ্যোগ।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ করা সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করা হয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি খাতে দেওয়া এই ঋণের ব্যবহার ও নীতিমালা কিছু দিক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকার অংশগ্রহণকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে যে ঋণ দিচ্ছে তার বার্ষিক সুদ হার হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে। আর ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাভোগী বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে এই ঋণ বিতরণ করবে। এই হারের মধ্যেই যাবতীয় ফি ও চার্জযুক্ত থাকবে।

এই তহবিলের অর্থ সরাসরি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেবল নির্দিষ্ট কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন ও আধুনিকায়নে ব্যবহার করা যাবে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে-ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগ; সোলার হোম সিস্টেম এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা; সৌরচালিত সেচপাম্প; সংশ্লিষ্ট ইনভার্টার, ডিজিটাল মিটার এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।

ঋণের ক্ষেত্রে কিছু বিধি নিষেধও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরনো ঋণ পরিশোধ, শেয়ার বা জমি ক্রয়, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

সুবিধাভোগীর অনাদায়ীজনিত ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ বিভাগে প্রতি তিন মাস পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল এবং বার্ষিক স্বাধীন বহির নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

প্রকাশের সময় : ১১:২৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সরকারি-বেসরকারি তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার। প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঋণ থেকে বিভিন্ন গ্রাহকদের ঋণ দেবে, যার সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, দেড় হাজার কোটি ঋণের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মাইক্রো-স্মল-মিডিয়াম (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হবে। অবশিষ্ট ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।

সরকারি পরিপত্রে এই বিশেষ তহবিল গঠন ও ঋণ প্রদানের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ ও লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমাত্রার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বেড়েছে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৫-২০৩০) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যে পৌছতে এ উদ্যোগ।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ করা সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করা হয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি খাতে দেওয়া এই ঋণের ব্যবহার ও নীতিমালা কিছু দিক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকার অংশগ্রহণকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে যে ঋণ দিচ্ছে তার বার্ষিক সুদ হার হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে। আর ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাভোগী বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে এই ঋণ বিতরণ করবে। এই হারের মধ্যেই যাবতীয় ফি ও চার্জযুক্ত থাকবে।

এই তহবিলের অর্থ সরাসরি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেবল নির্দিষ্ট কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন ও আধুনিকায়নে ব্যবহার করা যাবে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে-ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগ; সোলার হোম সিস্টেম এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা; সৌরচালিত সেচপাম্প; সংশ্লিষ্ট ইনভার্টার, ডিজিটাল মিটার এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।

ঋণের ক্ষেত্রে কিছু বিধি নিষেধও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরনো ঋণ পরিশোধ, শেয়ার বা জমি ক্রয়, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

সুবিধাভোগীর অনাদায়ীজনিত ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ বিভাগে প্রতি তিন মাস পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল এবং বার্ষিক স্বাধীন বহির নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।