Dhaka ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চার দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস আমার এখনো বিয়ে হয়নি : পূজা চেরি নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদ পেলেন ভারতের সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ ঢাকায় আর্জেন্টাইন তারকা ক্যানিজিয়া, প্রত্যাশা বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই চ্যালেঞ্জ : প্রধানমন্ত্রী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৮৫ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড নাজমুন নাহারের আজ চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’, ঢাকার ৯ রুটে মিলবে সেবা

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৮৫ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড নাজমুন নাহারের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ভ্রমণের ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছেন বিশ্বপরিব্রাজক নাজমুন নাহার। লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বভ্রমণ করে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি শান্তি, মানবতা ও সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের যাত্রা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একাকী ভ্রমণ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমান তিনি। তার ভ্রমণের বড় একটি অংশই হয়েছে সড়কপথে। দীর্ঘ এই অভিযাত্রায় নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির মুখোমুখি হলেও থেমে যাননি তিনি।

২০১৮ সালের ১ জুন জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ওপর দিয়ে ১০০তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেন নাজমুন। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর ১৫০তম দেশ হিসেবে সাও টোমে ও প্রিন্সিপে ভ্রমণ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ১৭৫তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তার দেশ ভ্রমণের সংখ্যা ১৮৪-তে পৌঁছে। সর্বশেষ ৭ আগস্ট ২০২৬ ভুটান ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি ১৮৫ দেশ ভ্রমণের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

বিশ্বভ্রমণের পাশাপাশি নাজমুন নাহার বিভিন্ন দেশে শান্তি ও মানবতার বার্তা প্রচার করেছেন। ‘নো ওয়ার, অনলি পিস’, ‘সেইভ দ্য প্ল্যানেট’ এবং ‘স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ’—এ ধরনের বার্তা নিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন। শিশু ও তরুণদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বড় স্বপ্ন দেখার জন্যও অনুপ্রাণিত করেন তিনি।

শিক্ষাজীবনেও নাজমুনের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সুইডেনে যান তিনি এবং লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া বিষয়ে আরেকটি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে নাজমুন নাহার একজন গবেষক ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরে জন্ম নেওয়া এই বিশ্বপরিব্রাজকের বিশ্বভ্রমণের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা, দাদা ও বই। তার মা-ও তার সঙ্গে ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

বিশ্বভ্রমণের স্বীকৃতি হিসেবে নাজমুন নাহার পেয়েছেন দেশি-বিদেশি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড’ অন্যতম। ২০১৯ সালে বিশ্বশান্তির বার্তা বহন করে একাকী বিশ্বভ্রমণের জন্য তিনি এ সম্মাননা পান। মিখাইল গর্বাচেভ, নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসাসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তিও এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

এ ছাড়া পিস রানার অ্যাওয়ার্ড, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, উইমেন এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, রোটএশিয়া লেজেন্ডস অ্যাওয়ার্ড, গেম চেঞ্জার অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড, গ্লোব অ্যাওয়ার্ড, অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল, অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা, প্রাইড অব বাংলাদেশ, ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ডসহ প্রায় ৬০টি পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন নাজমুন নাহার।

দীর্ঘ এই বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে নাজমুন নাহার শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেননি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাও তুলে ধরেছেন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সাহস, অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৮৫ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড নাজমুন নাহারের

প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ভ্রমণের ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছেন বিশ্বপরিব্রাজক নাজমুন নাহার। লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বভ্রমণ করে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি শান্তি, মানবতা ও সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের যাত্রা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একাকী ভ্রমণ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমান তিনি। তার ভ্রমণের বড় একটি অংশই হয়েছে সড়কপথে। দীর্ঘ এই অভিযাত্রায় নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির মুখোমুখি হলেও থেমে যাননি তিনি।

২০১৮ সালের ১ জুন জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ওপর দিয়ে ১০০তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেন নাজমুন। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর ১৫০তম দেশ হিসেবে সাও টোমে ও প্রিন্সিপে ভ্রমণ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ১৭৫তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তার দেশ ভ্রমণের সংখ্যা ১৮৪-তে পৌঁছে। সর্বশেষ ৭ আগস্ট ২০২৬ ভুটান ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি ১৮৫ দেশ ভ্রমণের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

বিশ্বভ্রমণের পাশাপাশি নাজমুন নাহার বিভিন্ন দেশে শান্তি ও মানবতার বার্তা প্রচার করেছেন। ‘নো ওয়ার, অনলি পিস’, ‘সেইভ দ্য প্ল্যানেট’ এবং ‘স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ’—এ ধরনের বার্তা নিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন। শিশু ও তরুণদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বড় স্বপ্ন দেখার জন্যও অনুপ্রাণিত করেন তিনি।

শিক্ষাজীবনেও নাজমুনের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সুইডেনে যান তিনি এবং লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া বিষয়ে আরেকটি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে নাজমুন নাহার একজন গবেষক ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরে জন্ম নেওয়া এই বিশ্বপরিব্রাজকের বিশ্বভ্রমণের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন তার বাবা, দাদা ও বই। তার মা-ও তার সঙ্গে ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

বিশ্বভ্রমণের স্বীকৃতি হিসেবে নাজমুন নাহার পেয়েছেন দেশি-বিদেশি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড’ অন্যতম। ২০১৯ সালে বিশ্বশান্তির বার্তা বহন করে একাকী বিশ্বভ্রমণের জন্য তিনি এ সম্মাননা পান। মিখাইল গর্বাচেভ, নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসাসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তিও এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

এ ছাড়া পিস রানার অ্যাওয়ার্ড, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, উইমেন এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, রোটএশিয়া লেজেন্ডস অ্যাওয়ার্ড, গেম চেঞ্জার অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড, গ্লোব অ্যাওয়ার্ড, অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল, অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা, প্রাইড অব বাংলাদেশ, ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ডসহ প্রায় ৬০টি পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন নাজমুন নাহার।

দীর্ঘ এই বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে নাজমুন নাহার শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেননি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাও তুলে ধরেছেন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সাহস, অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।