হরিণাকুন্ডুতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ০৭:০২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 19
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, রেজুলেশন ছাড়াই বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ, মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগ এবং চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন ১৯৯০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম শুরু হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি আব্দুস সালামের স্বাক্ষর জাল করে অগ্রণী ব্যাংকের কণ্যাদহ শাখা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন পরিচালনা কমিটি প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না—এ মর্মে অঙ্গীকার করায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের দুটি গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা মখলেছুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়েও উপস্থিত থাকেন না বলে দাবি করেন।
আরেক বাসিন্দা ইমদাদুল হক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। চাকরি না হওয়ায় মানসিক আঘাতে হাবিবুরের বাবা স্ট্রোক করে মারা যান বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া মৃত সভাপতি পরিমল সাধুখার স্বাক্ষর জাল করে অর্থের বিনিময়ে এক আত্মীয়কে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, প্রধান শিক্ষক তার স্বাক্ষর জালসহ নানা অনিয়ম করেছেন। বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি থাকলেও কেনাকাটা বা আর্থিক বিষয়ে তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না এবং কোনো হিসাবও দেওয়া হয় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি অনেক আগেই মীমাংসা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় প্রধান শিক্ষক হওয়ার স্বার্থে তিনি ওই দলে যুক্ত হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























